যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ীভাবে বসবাসের চূড়ান্ত ছাড়পত্র বা ‘গ্রিন কার্ড’-এর আবেদনপ্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এখন থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কাছ থেকে অগ্রিম ১ লাখ মার্কিন ডলার (যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে) বন্ড বা ফি হিসেবে জমা নেওয়ার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

বিশ্বের কম আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী অভিবাসনে নিরুৎসাহিত এবং সীমিত করাই এই চরম বিতর্কিত উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ’‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, স্থায়ী অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে উচ্চমূল্যের এই বন্ড জামানত হিসেবে আরোপ করার কথা ভাবা হচ্ছে।

  • অর্থ জমা ও ফেরতের শর্ত: প্রস্তাবিত নীতিটি কার্যকর হলে, আবেদনকারীকে আবেদনের শুরুতেই এই বন্ডের বিপুল অর্থ ওয়াশিংটনের তহবিলে জমা রাখতে হবে। পরবর্তীতে আবেদনকারী ব্যক্তি যদি কয়েক বছর পর সব নিয়ম মেনে সফলভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারেন, তবেই কেবল তাকে এই জমানো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

  • জামানতের মূল উদ্দেশ্য: সূত্র জানিয়েছে, এই ১ লাখ ডলার মূল বন্ড মূলত এক ধরণের নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা জামানত হিসেবে কাজ করবে। কোনো গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর যদি নিজের আর্থিক সংস্থান করতে না পারেন বা মার্কিন সরকারের সমাজকল্যাণমূলক তহবিলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে ওই বন্ডের অর্থ থেকে সেই খরচ মেটানো হবে।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ অঙ্কের এই ফি চালুর ছকটি মূলত কম আয়ের দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড চাওয়া থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমেরিকা গিয়ে ভালো আয়ের পথ খোঁজা বহু সাধারণ যোগ্য আবেদনকারীর পক্ষে শুরুতেই এত বড় অঙ্কের অর্থ যোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসন ফেরার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে নেওয়া কঠোর অভিবাসনবিরোধী কৌশলের অংশ হিসেবেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের নির্ধারিত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে, যা নিয়ে বর্তমানে মার্কিন আদালতেও আইনি লড়াই চলছে। এছাড়া গত জুন মাসে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বহুল প্রচলিত ‘এইচ-১বি’ (H-1B) ভিসার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর ১ লাখ ডলার ফি আরোপের চেষ্টা করা হলে আদালতের রায়ে তা আটকে যায়। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই ১ লাখ ডলারের গ্রিন কার্ড বন্ড নীতি আইনি বাঁধা পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে কি না।

মন্তব্য করুন