ডেসটিনির রফিকুল আমিনের অনেক সম্পদ বেহাত!

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ণ
ডেসটিনির রফিকুল আমিনের অনেক সম্পদ বেহাত!

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দেড় দশক আগের এক অভিযোগে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রফিকুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার (২৯ জুন) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তাকে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের পুরনো একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁকে তলব করা হয়েছিল। আজ সংস্থাটির একজন সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে অনুসন্ধান টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেছে।

দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ১২ বছর কারাভোগের পর গত বছরের (২০২৫) ১৫ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান রফিকুল আমিন। তিনি দীর্ঘদিন জেলে থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগটির তদন্ত ঝুলে ছিল। আজকের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর সম্পদ সংশ্লিষ্ট হালনাগাদ নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। তিনি কিছু কাগজ তাৎক্ষণিকভাবে জমা দিলেও বাকি তথ্য সরবরাহের জন্য কিছুটা সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।

দুদকের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন রফিকুল আমীন তাঁর দীর্ঘ ১২ বছরের কারাভোগের বিবরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি তদন্ত দলের কাছে দাবি করেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর অর্জিত বিপুল পরিমাণ সম্পদ ইতিমধ্যে বেদখল হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে এখনো তাঁর মালিকানা থাকলেও বাস্তবে সেই সম্পদগুলো এখন অন্যের দখলে এবং সম্পূর্ণ বেহাত। এই বেহাত হওয়া সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে তিনি দুদকের সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে রফিকুল আমীনের বিরুদ্ধে প্রথম অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দীর্ঘ বিরতির পর সেই অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যক্রম আবারও সক্রিয় করা হলো। এর আগে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের বৃক্ষরোপণ প্রকল্প ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি বড় মামলা দায়ের করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।

একই অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের সাবেক পরিচালক গোফরানুল হক ও তৈয়বুর রহমানকেও আজ তলব করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনে তাঁরা দুদকে হাজির হননি বলে জানিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, ২০১২ সালে ডেসটিনির মোট ৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে নেমেছিল দুদক। এই তালিকায় রফিকুল আমীন ছাড়াও রয়েছেন মোহাম্মদ গোফরানুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়বুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, ইরফান আহমেদ সানী, মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ সাঈদ-উর-রহমান এবং মো. আকবর হোসেন সুমন।

মন্তব্য করুন