ওয়াশিংটনে মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ওয়াশিংটনে মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে একটি অত্যাধুনিক সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বংসী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালীন মার্কিন মেরিন কোরের একটি ‘এফ/এ-১৮ হর্নেট’ ফাইটার জেট আচমকা ভূপাতিত হয়। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার সাথে সাথে সেটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আগুন। তবে অত্যন্ত বিপজ্জনক এই কন্ডিশন তৈরি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানের ভেতরে থাকা পাইলট জরুরি ইজেকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

আজ রবিবার (১৪ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ক্র্যাশ, পেন্টাগন ডিফেন্স ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক খতিয়ান’ এবং ‘ইউএস মিলিটারি ক্রাইসিস, ফরেস্ট ফায়ার রেসকিউ ও বর্ডার ইন্টেলিজেন্স উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা এবং উদ্ধার অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ ১১’ এবং ‘থার্ড মেরিন এয়ারক্রাফট উইং’-এর পক্ষ থেকে যৌথভাবে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক খতিয়ান ও বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিধ্বস্ত হওয়া এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানটি মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত ‘মেরিন কোর এয়ার স্টেশন মিরামার’-এর নিয়মিত স্কোয়াডভুক্ত ছিল। ওয়াশিংটনের ওকানোগান-ওয়েনাচি ন্যাশনাল ফরেস্টের আকাশসীমায় বিমানটির একটি রুটিন বা নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশন পরিচালনার দায়িত্ব ছিল।

উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের দেওয়া বার্তা অনুযায়ী, বনাঞ্চলের ভেতরের ‘রিমরক লেক’ (Rimrock Lake) নামক প্রত্যন্ত এলাকার কাছে বিমানটি সজোরে আছড়ে পড়ে। বিমান থেকে প্যারাস্যুটযোগে নিরাপদে বের হয়ে আসতে পারলেও মাটিতে অবতরণের সময় তীব্র ধাক্কায় এবং বোম্বিং কন্ডিশনের কারণে পাইলট মারাত্মকভাবে জখম ও গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ইয়াকিমা কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্টের একজন ডেপুটি ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই পাইলটকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। বর্তমানে তাকে স্থানীয় একটি সামরিক হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এর জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে বনের শুকনো পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। বনাঞ্চলের ভেতরে থাকা ‘বেয়ার ক্রিক কেবিন’ সহ আশেপাশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মানববসতি সুরক্ষায় ফায়ার ফাইটাররা দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক বলয় তৈরি করে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বনের আগুন পুরোপুরি নেভাতে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের (US Forest Service) বিশেষায়িত দলের সাথে সমন্বয় করে একটি বিশাল ‘ওয়াটার টেন্ডার’ (পানি ছিটানোর বিশেষ সামরিক যান) মোতায়েন করা হয়েছে। আজ রবিবার সারাদিন ব্যাপী এই আগুন নেভানোর যৌথ অপারেশন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই মার্কিন বিমানবাহিনীর মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ ১১-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে পেন্টাগনের সামরিক বিধি অনুযায়ী, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের নিরপেক্ষতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থে এই মুহূর্তে দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ বা কারিগরি ত্রুটি নিয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক প্রশাসন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন