ট্রাম্পের ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষোভ

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্পের ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক:বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত’ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণ ও বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই চুক্তিকে বড় ধরণের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দাবি করার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও, প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা একে দেখছেন ট্রাম্পের চরম ব্যর্থতা ও তেহরানের শর্তের কাছে মার্কিন নতিস্বীকার হিসেবে। ট্রাম্প প্রশাসন এখনো এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ না করলেও, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে এটি নিয়ে এখনই বড় ধরণের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আজ রবিবার (১৪ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘হোয়াইট হাউস কূটনীতি, বৈশ্বিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক খতিয়ান’ এবং ‘ইউএস ডমেস্টিক পলিটিক্স, মিডল ইস্ট পলিসি ও পেন্টাগন বাজেট উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ট্রাম্পের ইরান চুক্তির নেপথ্য বিতর্ক ও ডেমোক্র্যাটদের আপত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ ট্রাম্পের এই তড়িঘড়ি যুদ্ধ শেষের ঘোষণা নিয়ে নিজের গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর গলায় বলছেন যে যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে। আমি মনে-প্রাণে আশা করি তাঁর এই কথাটি যেন সত্য ও সঠিক হয়। কিন্তু অতীত খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, আমরা এর আগেও তাঁর মুখে এমন অনেক বড় বড় কথা শুনেছি এবং শেষ পর্যন্ত সেসব একের পর এক অপূর্ণ ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতেই রূপ নিয়েছে।”

সিনেটর শিফ মার্কিন জনগণের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরাবস্থা ও জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একের পর এক নতুন ও অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন, কিন্তু দেশের ভেতরে সাধারণ মার্কিনীদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বা অর্থনৈতিক স্বস্তি দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর এই হঠকারী ও ভুল যুদ্ধনীতির কারণে মার্কিন জনগণ সামাজিকভাবে এবং গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সেথ মোল্টন এই সম্ভাব্য চুক্তিটিকে আরও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে এটিকে সরাসরি ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোল্টন বলেন, “এটি অত্যন্ত নিম্নমানের এবং একটি ভয়াবহ ক্ষতিকারক চুক্তি। মূলত এই চুক্তিটির মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার সমস্ত শর্তের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্পূর্ণ নতিস্বীকার করেছে এবং এটি আসলে হোয়াইট হাউসের একটি আত্মসমর্পণের দলিল ছাড়া আর কিছুই নয়।”

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব টেনে কংগ্রেসম্যান সেথ মোল্টন গণমাধ্যমকে জানান, “এই অপ্রয়োজনীয় ও চাপিয়ে দেওয়া ইরান যুদ্ধে ইতিমধ্যেই মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ অপচয় হয়েছে। একই সাথে ডেস্কে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৪ জন নিরীহ মার্কিন নাগরিককে নিজের জীবন দিতে হয়েছে। অথচ এতসব ক্ষয়ক্ষতির পর বিনিময়ে আমরা এমন একটি সাধারণ চুক্তি পাচ্ছি, যার মাধ্যমে শুধু সেই প্রাচীন হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া হবে। অথচ ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করার আগেও এই জলপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুরোপুরি খোলাই ছিল। তাহলে এত রক্ত আর অর্থ খরচের পর যা আগের অবস্থায় ফেরত গেল, তাকে ট্রাম্প প্রশাসন কোন লজ্জায় ঐতিহাসিক কূটনৈতিক বিজয় বলছে?”

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্প ও ইরানের এই শান্তিচুক্তি শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত হলেও তা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। আগামী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউস যখন এই চুক্তির মূল ধারা ও শর্তাবলী জনসমক্ষে উন্মুক্ত করবে, তখনই পরিষ্কার হবে যে এই সমঝোতা কি আসলেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের কোনো কূটনৈতিক জয়, নাকি এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অবমাননাকর একটি রাজনৈতিক রফা।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন