নেইমারেই ভরসা খুঁজছে ব্রাজিল
নিজস্ব প্রতিবেদক:২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের অভিযানে নামার আগে ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে নেইমার জুনিয়রের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ফুটবল মহলে প্রশ্নের কমতি ছিল না। চোট জর্জরিত ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বর্তমান ফর্ম এবং শারীরিক ফিটনেস নিয়ে খোদ ফুটবল পণ্ডিতদের মাঝেই ছিল চরম সংশয়। তবে মাঠের চড়া কন্ডিশন ও জটিল সমীকরণ যাই বলুক না কেন, সাধারণ ব্রাজিল সমর্থকদের বড় একটি অংশের কাছে নেইমারের দলে থাকাটা কেবলই কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি দীর্ঘ ২৪ বছরের বৈশ্বিক শিরোপা খরা কাটানোর এক পরম আবেগের নাম।
আজ রবিবার (১৪ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল, বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গন ও বিশ্বকাপ উন্মাদনা খতিয়ান’ এবং ‘ফুটবলার ইনজুরি ট্র্যাক, ট্যাকটিক্যাল অ্যানালাইসিস ও টিম কম্বিনেশন উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ব্রাজিল দলে নেইমারের বর্তমান চোট পরিস্থিতি ও ভক্তদের প্রত্যাশার পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
মরক্কোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের নিজেদের প্রথম হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে কাফ ইনজুরির (গোড়ালির ওপরের পেশির চোট) কারণে একাদশে নামতে পারেননি ব্রাজিলের এই চালিকাশক্তি। সম্পূর্ণ ম্যাচটি তাকে সাইডবেঞ্চে বসেই উপভোগ করতে হয়েছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, মাঠে না খেলেও গ্যালারি কিংবা ক্যামেরার লেন্স—সবখানেই ম্যাচের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন এই তারকা ফুটবলার। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার সেলেসাও ভক্তদের সিংহভাগেরই গায়ে ছিল ১০ নম্বর খচিত নেইমারের জার্সি। সমর্থকদের স্পষ্ট দাবি, ট্রফি জিততে হলে দলে নেইমারের মতো একজন জাদুকরী তারকার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, যিনি একক দক্ষতায় যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের পুরো মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
মরক্কোর বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলের শুরুটা ছিল ভীষণ নড়বড়ে ও ছন্নছাড়া। প্রথমার্ধেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মরক্কোর ফরোয়ার্ডদের কাউন্টার অ্যাটাকে গোল হজম করে চরম চাপে পড়ে সেলেসাওরা। যদিও পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক জাদুকরী গোলে সমতায় ফেরে দল এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। তবে পুরো ম্যাচ জুড়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ফাইনাল থার্ডের পাসিং ও সৃজনশীলতার তীব্র অভাব ধরা পড়েছে ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে। ভিনিসিয়ুস ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কিছু মুহূর্ত তৈরি করলেও দলের বাকি ফরোয়ার্ডদের কাছ থেকে আশানুরূপ সহায়তা পাননি। আর ঠিক এই জায়গাতেই বারবার ডাগআউটে বসা নেইমারের শূন্যতা অনুভব করেছে দল।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে পেলে, রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনহো কিংবা কাকার মতো কালজয়ী কিংবদন্তিদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের টেনে নিয়ে চলেছেন নেইমার। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিলেও ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়া এখনো তাঁর অধরাই রয়ে গেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এটিই হয়তো নেইমারের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ এবং এই মঞ্চেই হয়তো ফুটবল ঈশ্বর তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অসমাপ্ত গল্পের একটি নিখুঁত ও সুন্দর শেষ অধ্যায় লিখে দেবেন।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজান, তখন মাঠে নামতে না পারা নেইমারকে ঘিরেই তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। নিজের দলের সতীর্থরা তো বটেই, মরক্কো দলের ফুটবলাররাও এই মেগাস্টারের সাথে হাত মেলাতে এবং কুশল বিনিময় করতে ডাগআউটের দিকে ছুটে আসেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি অটুট রয়েছে। আর সেই হেক্সা মিশন সফল করতে দলের এই মূল ভরসা চোট কাটিয়ে পরবর্তী ম্যাচেই মাঠে ফিরবেন—আপাতত এই প্রার্থনাই করছেন বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি সেলেসাও ভক্ত।
জান্নাত সকালবেলা
|