তুরস্কের দাপট উড়িয়ে ইরানকুন্ডা-মেটকাফের গোলে জিতল অস্ট্রেলিয়া
ক্রীড়া প্রতিবেদক:উত্তর আমেরিকা মহাদেশে যৌথভাবে আয়োজিত ‘ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬’ এর গ্রুপ পর্বের একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপের পরাশক্তি তুরস্ক ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ফুটবল জায়ান্ট অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ ২৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৈশ্বিক ফুটবল মঞ্চে পা রেখেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ, বল পজিশন এবং আক্রমণ—সবদিক থেকেই একপেশে দাপট দেখিয়েছে তারকাবহুল তুরস্ক দল। কিন্তু মাঠের সেই রাজকীয় পরিসংখ্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিখুঁত প্রতি-আক্রমণ ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় ২-০ গোলের অসাধারণ এক জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ‘সকারুজ’রা।
আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ, ফিফা টুর্নামেন্ট ট্র্যাকিং ও স্পোর্টস অ্যানালাইসিস খতিয়ান’ এবং ‘ক্লিনিক্যাল ট্যাকটিক্স, ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ লাইভ ও পেন্টাগন স্পোর্টস উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ভ্যাঙ্কুভারের ফুটবল যুদ্ধ এবং অজি গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক ম্যাচের ম্যাচ কন্ডিশন ও স্পোর্টস অ্যানালাইসিস খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুরো ম্যাচের ৭২ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল তুরস্কের ফুটবলাররা। ম্যাচের নির্দিষ্ট সময় জুড়ে তারা অস্ট্রেলিয়ার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ৮টি অন-টার্গেট জোরালো শট নেয়। বিপরীতে পুরো ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া স্রেফ ২টি শট নেওয়ার সুযোগ পায়। তবে ফুটবলীয় মেথডলজি অনুযায়ী, সেই ২টি শটকেই শতভাগ সফলতায় গোলে রূপান্তর করে সব পরিসংখ্যান উল্টে দেয় টনি পপোভিচের শিষ্যরা। এটি ছিল ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার টানা ষষ্ঠ এবং সব মিলিয়ে সপ্তম অংশগ্রহণ। অন্যদিকে, ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর দীর্ঘ পাঁচটি আসরে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া তুরস্ক এবার প্লে-অফে কসোভোকে হারিয়ে ২০২৬ এর টিকিট নিশ্চিত করেছিল।
ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে ২৭তম মিনিটে। অজিদের ২০ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড ও ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ডের তারকা নেস্টরি ইরানকুন্ডা মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে তুরস্কের ৩ জন ডিফেন্ডারের কড়া মার্কিং ও শারীরিক চাপ সামলে দুর্দান্ত এক নিচু শটে বল জালে জড়ান। এই গোলের পর উল্লাসের মেথড হিসেবে ইরানকুন্ডা কর্নার ফ্ল্যাগে বক্সিং পাঞ্চ মেরে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা ফুটবল কিংবদন্তি টিম কাহিলকে শ্রদ্ধা জানান। এই গোল করার মাধ্যমে ইরানকুন্ডা বিশ্বকাপে গোল করা অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম খতিয়ানের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নিলেন।
ম্যাচে তুরস্কের গোল না পাওয়ার একমাত্র খলনায়ক ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। কোচ টনি পপোভিচ এদিন অভিজ্ঞ ও নিয়মিত গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ানের পরিবর্তে বিচকে গোলপোস্টের দায়িত্ব দিয়ে ফুটবল মহলে বড় চমক সৃষ্টি করেছিলেন। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে বিচ ম্যাচজুড়ে অবিশ্বাস্য ৮টি গোল সেভ করেন। প্রথমার্ধে তুরস্কের আবদুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার রকেট গতির শট রুখে দেওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জুভেন্টাসের তরুণ তুর্কি কেনান ইলদিজ মাঠে নামলে আক্রমণের ধার আরও বাড়ে।
ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে বিপজ্জনক কন্ডিশনে একটি ফ্রি-কিক পায় তুরস্ক। রিয়াল মাদ্রিদের ২১ বছর বয়সী বিশ্বখ্যাত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আরদা গুলারের নেওয়া সেই বাঁকানো নিখুঁত শটটিও বাজপাখির মতো উড়ে গিয়ে তালুবন্দী করেন বিচ। উল্লেখ্য, তুরস্ক সর্বশেষ যখন ২০০২ সালে বিশ্বকাপ খেলেছিল, তখন আরদা গুলারের জন্মই হয়নি। এরপর ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে তুরস্কের মিডফিল্ডার ইসমাইল ইউকসেকের একটি মারাত্মক ডিফেন্সিভ ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে একক ক্যারিশমায় বল কেড়ে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ব্যবধান ২-০ করেন কনর মেটকাফ। এই জয়ের ফলে গত কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়া অস্ট্রেলিয়া এবারও নকআউট পর্বের দিকে শক্ত কদমে এগিয়ে গেল।
জান্নাত সকালবেলা
|