স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। আগামী ১১ জুন স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বৈশ্বিক মহাযজ্ঞ। তবে ফুটবলপ্রেমী ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের মাঠে নিজেদের প্রিয় দলকে দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আরও দিন পাঁচেক। আগামী ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে ‘গ্রুপ জে’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্ক্যালোনির শিষ্যরা।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলা’ ও ‘বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আপডেট’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিনে আর্জেন্টিনা শিবিরের অভ্যন্তরীণ আবহ ও প্রতিপক্ষ দলগুলোর সর্বশেষ শক্তির সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত স্কোয়াড বা দল ঘোষণা হয়ে গেলেও আলবিসেলেস্তে শিবিরে এই মুহূর্তে প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলোয়াড়দের চোট বা ইনজুরি। দলের বেশ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য ও প্রথম সারির ফুটবলার এখনো পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি। তবে কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির জন্য ইনজুরির চেয়েও বড় ভাবনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে উত্তর আফ্রিকার এই শক্তিশালী দলটি। গতকাল বুধবার রাতে এক হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে তারা ইউরোপের পরাশক্তি শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়েছে। ডাচদের হারানোর আগে গত মার্চে আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে গুয়াতেমালাকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। একই সাথে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম সেরা দল উরুগুয়ের সাথেও গোলশূন্য ড্র করার কৃতিত্ব দেখায় আলজেরিয়া। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে আলজেরিয়ানদের আত্মবিশ্বাস ও দলীয় বোঝাপড়া এখন আকাশচুম্বী।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের সেই ঐতিহাসিক ও তিক্ত স্মৃতি এখনো ভুলে যাননি আর্জেন্টিনা দলের কোটি কোটি সমর্থক ও টিম ম্যানেজমেন্ট। সেবার নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পুঁচকে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল লিওনেল মেসির দল। যদিও পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সব ম্যাচ জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরেছিল তারা। অতীতের সেই কঠিন ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কারণেই এবার গ্রুপ পর্বের কোনো প্রতিপক্ষকেই বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না আর্জেন্টিনা প্রশাসন।
আর্জেন্টিনার গ্রুপ ‘জে’-র অন্য দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে বর্তমানে বেশ ভালো ফর্মে রয়েছে ইউরোপের দল অস্ট্রিয়া। সম্প্রতি তারা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। নিজেদের খেলা শেষ ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে অস্ট্রিয়ার হার মাত্র একটিতে, যা তাদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেয়।
অন্যদিকে, এই গ্রুপে আর্জেন্টিনার জন্য তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ মনে করা হচ্ছে এশিয়ার দেশ জর্ডানকে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের দল সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে দলটি। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যেকোনো দলই চমক দেখাতে পারে, তাই চোট কাটিয়ে নিজেদের সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করাই এখন লিওনেল স্ক্যালোনির মূল লক্ষ্য।
জান্নাত সকালবেলা