হামে শিশু মৃত্যু: অন্তর্বর্তী সরকারের অযোগ্যতা নাকি পরিকল্পিত চক্রান্ত

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
হামে শিশু মৃত্যু: অন্তর্বর্তী সরকারের অযোগ্যতা নাকি পরিকল্পিত চক্রান্ত

বর্তমান দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হামে শত শত শিশুর মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক সৈয়্যদ ইফতেখার। এক বিশেষ কলামে তিনি উল্লেখ করেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অযোগ্যতা, অব্যবস্থাপনা এবং ভুল নীতিনির্ধারণের কারণেই আজ হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হচ্ছে। তিনি এই গণমৃত্যুকে ‘ইচ্ছাকৃত শিশুহত্যা’ এবং ‘প্রজন্ম ধ্বংসের চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর বিচার দাবি করেছেন। ড. ইউনূসের প্রবর্তিত ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্বের সমালোচনা করে লেখক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে ‘তিন শূন্য শূন্য’ তথা তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর কারিগর হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের এই স্বাস্থ্য সংকটের জন্য সরাসরি সাবেক ওই প্রশাসনকে দায়ী করছেন বলে তিনি জানান।

প্রতিবেদনটিতে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা বন্ধ করে ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ পদ্ধতি চালু করার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দেশে টিকার ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়। ইউনিসেফ বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার সেই সিদ্ধান্তে অটল ছিল, যার ফলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ে। লেখক প্রশ্ন তোলেন, যেখানে হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ, সেখানে কেন আজ হাসপাতালের শয্যায় শয্যায় আক্রান্ত শিশুর ভিড় এবং আইসিইউ ও অক্সিজেনের হাহাকার দেখা দিচ্ছে? তিনি এই পরিস্থিতিকে কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ‘ম্যাটিকুলাস ডিজাইন’ করে একটি প্রজন্মকে মেধাহীন ও পঙ্গু করে দেওয়ার চক্রান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একই সাথে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখক বলেন, এই সংকটের শিকড় খুঁজে বের করে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। নমুনা পরীক্ষার কিট সংকট এবং চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা দূর করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যে শিশুরা হাম থেকে বেঁচে ফিরছে, তারাও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক জটিলতার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় এবং আগামীর কোনো ‘ইউনূসীয় ছেলেখেলা’ রুখতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক মহলে সমাদৃত অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও শাসক হিসেবে ড. ইউনূসের সিদ্ধান্তগুলো দেশের জনস্বাস্থ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে তিনি কলামে মন্তব্য করেন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন