দীঘিনালায় ৭ বিজিবির ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
রুপম চাকমা, দীঘিনালা প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি)-এর ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হয়েছে।
আজ রোববার (৭ জুন) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এ দিনটি পালন করে ব্যাটালিয়নটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি বিজিবি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ইফতেখারুল আলম বেগ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবময় একটি বাহিনী। দেশের সীমান্ত সুরক্ষার কঠিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এই বাহিনীটির অবদান অনস্বীকার্য। সদস্যদের কর্মনিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমই বিজিবির সাফল্যের প্রধান ভিত্তি।”
৭ বিজিবি’র ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইশতিয়াক আহমেদ ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—খাগড়াছড়ি বিজিবি সেক্টরের অধীনস্থ বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অধিনায়কবৃন্দ, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মুরতোজা আলী খান, দীঘিনালা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল আমিন, দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ তানজিল পারভেজ এবং দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশ, জাতি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উত্তরোত্তর সাফল্য, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে প্রধান অতিথি, সভাপতি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ একসঙ্গে মঞ্চে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আনন্দ কেক কাটেন।
সভাপতির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইশতিয়াক আহমেদ ইবনে রিয়াজ বলেন, “দীর্ঘ ৬৮ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথচলায় ৭ বিজিবি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সীমান্ত অপরাধ দমন, চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিজিবি এই সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের ধারা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে যাবে।”
আনুষ্ঠানিকতা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানে এক প্রীতি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজকালীন উপস্থিত অতিথিরা ৭ বিজিবি’র দীর্ঘ পথচলার বীরত্বপূর্ণ সাফল্য স্মরণ করেন এবং বাহিনীটির ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এআইএল/সকালবেলা
|