পদ্মায় তীব্র ভাঙন: হুমকিতে ৩ ফেরিঘাট
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দুই দিনে ঘাট এলাকার প্রায় ৫০ মিটার তীরবর্তী অঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে দৌলতদিয়ার ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং স্থানীয় জনজীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাটের বিভিন্ন অংশে পদ্মার স্রোতে মাটির চাপ ধসে পড়ছে। ভাঙন ক্রমান্বয়ে ঘাটের মূল অবকাঠামোর দিকে এগিয়ে আসায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, “আমাদের বাড়ি নদীর খুব কাছেই। রাতে ঘুমাতে গেলেও ভয় লাগে, মনে হয় এই বুঝি ঘর নদীতে চলে গেল। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত নদী শাসনের ব্যবস্থা করে আমাদের রক্ষা করা হোক।”
আরেক বাসিন্দা সাইফুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েক দফা ভাঙনের কারণে আগেই অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আর নতুন করে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। শুধু আশ্বাস শুনি, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো কাজ চোখে পড়ছে না।” সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে একই ধরনের উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা তাজবীন বেগমও।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) সালাহ উদ্দিন বলেন, “দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দীর্ঘদিন ধরেই পদ্মার তীব্র ভাঙনপ্রবণ এলাকা। বর্তমানে ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পেছনের অংশেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে বর্তমানে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, “নদীভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে জরুরি আলোচনা চলছে। আশা করছি পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ গোয়ালন্দের পদ্মা নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন পেলেই দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলাসহ অন্যান্য কাজ শুরু করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|