নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারী শহরের গাছবাড়ী এলাকায় পাষণ্ড স্বামী কর্তৃক শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া গৃহবধূ বীথি আক্তার (২৫) অবশেষে মারা গেছেন। টানা সাত দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেলে ঢাকার ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত বীথি আক্তার জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের বড়বাড়ি গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে। গত শনিবার (৯ মে) রাতে নীলফামারীর গাছবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বীথির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তাঁর স্বামী সাজু খান (৩৫)। এরপর তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায় সে। প্রতিবেশীরা চিৎকারে ছুটে এসে অগ্নিদগ্ধ বীথিকে উদ্ধার করে প্রথমে নীলফামারী সদর ও পরে রংপুর মেডিকেলে পাঠান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
বীথির মা মাদুসা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই সাজু ও তার পরিবার যৌতুকের জন্য বীথিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে একাধিকবার আর্থিক সহযোগিতা করলেও সাজুর নির্যাতন থামেনি। সর্বশেষ সে পরিকল্পিতভাবে বীথিকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ঘাতক স্বামী সাজু খান পেশায় একজন মাহিন্দ্রা মেকানিক।
এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-১৭৫)। ঘটনার পর থেকে পলাতক সাজু খান তাঁর এক বন্ধুর মাধ্যমে তিন বছরের ছেলেকে নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আত্মগোপন করেছে। পুলিশ জানায়, আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (১৭ মে) বাবার বাড়িতে জানাজা শেষে বীথির দাফন সম্পন্ন হবে।
এ.আই.এল/সকালবেলা