মেহেদী হাসান মারুফ, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা রেঞ্জ সুন্দরবনে মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে আবারও ৮ জন বনজীবীকে অপহরণ করেছে দস্যুরা। অপহৃতদের মুক্তির বিনিময়ে স্বজন ও মহাজনদের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। সুন্দরবনে দস্যুদের এমন ধারাবাহিক দৌরাত্ম্যে উপকূলীয় বনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধ্যানোখালীর চর এলাকায় মাছ ধরা ও মধু সংগ্রহের সময় দস্যুরা এই অপহরণের ঘটনা ঘটায়। অপহৃতরা হলেন—শ্যামনগরের নজরুল তরফদার (৪৫), আবদুর রহমান (৩৫), আবদুল হামিদ মোড়ল (৫০), আবদুল আলিম (৪০), হাবিবুর রহমান (৪৮), আনোয়ারুল ইসলাম (৪২) এবং কয়রা এলাকার আবদুস সাত্তার (৪০) ও শাহিনুর রহমান (৩৮)।
এর আগে গত ৪ ও ৫ মে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের তথ্যমতে, সে সময় প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁরা ছাড়া পান। বারবার অপহরণের ঘটনায় সাধারণ বনজীবীরা এখন মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরেও দস্যুদের মুক্তিপণ আদায়ের ‘রুটিন’ কাজ বন্ধ হচ্ছে না।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম জানান, অপহরণের বিষয়ে এখনো কেউ দাপ্তরিকভাবে জানায়নি, তবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, কোনো পরিবার এখনো থানায় অভিযোগ করেনি। সাধারণত বনজীবীরা গোপনে সমঝোতা করে ফেলেন, তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ.আই.এল/সকালবেলা