বিল সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করেও রক্ষা পেলেন না কাওসার,৯ জন গ্রেপ্তার
সাঈদ পান্থ, বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কাওসার হোসেন হাওলাদার (৩৮) নামের এক যুবক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এ সময় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামের আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই ঘাতকরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জন এজাহারনামীয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ ও বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নিহত কাওসার হোসেন হাওলাদার ও আহত রাশেদের স্বজন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলা বিরোধ মীমাংসার জন্য ওইদিন রাতে স্থানীয়ভাবে একটি আলোচনা বা সালিসের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু আলোচনা চলাকালেই হঠাৎ করে ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলযোগে অস্ত্রধারী একদল সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্য ছিলেন কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন। আকস্মিক এই সশস্ত্র হামলার মুখে নিজেদের জীবন বাঁচাতে তারা দৌড়ে পাশের একটি বিলে নেমে পড়েন এবং সাঁতরে সড়কের অপর পাশের একটি অপরিচিত বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। তবে হামলাকারীরাও তাদের পিছু ছাড়েনি। ১৮ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল ওই বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে এবং আকস্মিক দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা কাওসার হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। সৌভাগ্যক্রমে রাশেদ আমিন ঘরের দরজার আড়ালে লুকিয়ে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা অত্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত প্রতিবেশি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওসার হোসেন হাওলাদারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাতলা এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা মাইক্রোবাসযোগে পালানোর চেষ্টা করলে দ্রুত বেতার বার্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ মোট ৯ জন অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।