কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ
কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানীর ‘শেরাটন ঢাকা’র গ্র্যান্ড বলরুমে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সম্মানে ‘এ ডিপ্লোম্যাটিক ইভনিং-২০২৬’ (A Diplomatic Evening-2026) শীর্ষক এক নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

সোমবার (৫ অক্টোবর) আয়োজিত এ জমকালো অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দলের জাতীয় সংসদ সদস্যরাও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি, সিঙ্গাপুর দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মি. ফিলিপ ওং, ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ওয়িসাম হুসাইন আলী আল-ইথাওয়ি। এ ছাড়া মালদ্বীপের ডেপুটি হাইকমিশনার মি. আলী শাহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট কাউন্সেলর কামিলা পার্টিকা এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালিস কেনেডিসহ রাশিয়া, জাপান, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা ও ব্রুনাইয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কূটনৈতিক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইতিহাস, ভিশন, মিশন, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং দেশের সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে একটি বিশেষ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে দলের আমীর মাওলানা মামুনুল হক নৈতিক দর্শন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে দলের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো জনগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। বরং ইসলামী দৃষ্টিকোণ ও মূল্যবোধকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে আমীরে মজলিস বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নির্দিষ্ট শক্তি বা বলয়ের পক্ষপাতী নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে বিশ্বাসী। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্য বাণিজ্য ও মানবিক সংলাপের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় দলটি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় সনদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি নারীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী মাওলানা আহমদ বিন ইউসুফ।

এ সময় সংগঠনের অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, যৌথ মহাসচিববৃন্দ, বিভিন্ন আসনের জাতীয় সংসদ সদস্যগণ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এআইএল/সকালবেলা