ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বইছে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের হাওয়া। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজপথের উত্তাপ এবার গিয়ে ঠেকেছে ‘মেধার লড়াই’ বা নীতিগত বিতর্কের প্রস্তাবে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কিন্তু সত্যিই কি তারা এক মঞ্চে বিতর্কে বসছেন? প্রশ্নটি এখন কোটি টাকার।
ঘটনার শুরু ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যখন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক প্রকাশ্যে বিতর্কের আহ্বান জানান। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ি বাদ দিয়ে কে দেশের মানুষের জন্য ভালো 'আইডিয়া' দিতে পারে, তা নিয়ে বিতর্ক হওয়া উচিত। জামায়াত আমিরের এই আহ্বানকে উন্নত গণতান্ত্রিক বিশ্বের রাজনৈতিক সংস্কৃতির (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট) অনুকরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জামায়াত আমিরের এই প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম এই ঐতিহাসিক বিতর্কটি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব এক ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমানকে এই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
তারেক রহমান সাম্প্রতিক নির্বাচনী জনসভাগুলোতে জামায়াত ও তাদের রাজনৈতিক আদর্শের কড়া সমালোচনা করছেন। তবে এই "ওপেন ডিবেট" বা উন্মুক্ত বিতর্কের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিএনপি হাই কমান্ড এই মুহূর্তে কোনো ধরণের বিতর্কে যাওয়ার চেয়ে সরাসরি মাঠের প্রচারণাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—তারেক রহমান কি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন? বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই প্রস্তাব বিএনপিকে এক ধরণের ‘উভয় সংকটে’ ফেলে দিয়েছে। রাজি হলে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক বিতর্ক; আর রাজি না হলে ভোটারদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমান এবং ডা. শফিকুর রহমান কি একই মঞ্চে বসবেন, নাকি এই প্রস্তাবটি নির্বাচনী উত্তাপের একটি কৌশল হয়েই থেকে যাবে—তার উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ