বগুড়ার রাজনীতির চেনা মুখ, তৃণমূল থেকে উঠে আসা প্রাজ্ঞ জননেতা এবং বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির এখন এক নতুন পরিচয়ে জেলাবাসীর সামনে। গত ১৫ মার্চ সরকারি এক আদেশে তিনি বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৬ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দুই মেয়াদে সফলভাবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করা এই নেতার কাঁধে এখন পুরো জেলার উন্নয়নের গুরুভার। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর কর্মপরিকল্পনা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং গত ২৯ মার্চ সোনাতলা-সারিয়াকান্দির গণসংবর্ধনা পরবর্তী আবেগ ও আগামীর ভিশন নিয়ে দৈনিক সকালবেলা-এর মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তাঁর সাথে কথা বলেছেন আমাদের বার্তা সম্পাদক রকিব মুহাম্মদ।
সকালবেলা: আসসালামু আলাইকুম। শুরুতেই ‘দৈনিক সকালবেলা’ পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন। গত ১৬ মার্চ আপনি এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পর এই প্রশাসনিক চেয়ারে বসে আপনার প্রাথমিক অনুভূতি ও লক্ষ্য কী?
এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির: ওয়ালাইকুম আসসালাম। ধন্যবাদ রকিব সাহেব এবং আপনার মাধ্যমে দৈনিক সকালবেলা’র সকল পাঠককে। অনুভূতিটা আসলে অত্যন্ত বিনম্রতার। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মো. শাহনেওয়াজ সাহেবের কাছ থেকে যখন দায়িত্ব বুঝে নিলাম, তখন আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল-বগুড়ার অবহেলিত উন্নয়নকে গতিশীল করা। আমার লক্ষ্য স্পষ্ট-বগুড়া জেলা পরিষদ হবে জনগণের আস্থার ঠিকানা, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়।
সকালবেলা: আপনি সোনাতলা উপজেলা পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা জেলা পরিষদের মতো একটি বিশাল ও জটিল প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনায় আপনাকে কতটা আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে?
এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির: দেখুন, ১০ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে আমি সরাসরি তৃণমূলের মাটির গন্ধ মেখে কাজ করেছি। গ্রামীণ রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো আমার নখদর্পণে। জেলা পরিষদের পরিধি অনেক বড় হলেও মূল সুতোটা কিন্তু একই। আমার সেই মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আমাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে বড় শক্তি জোগাচ্ছে।
সকালবেলা: দায়িত্ব গ্রহণের সময় জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সাবেক মেয়র এডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং?
এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির: রাজনীতি আমার আদর্শ, আর উন্নয়ন আমার পেশা। ১৬ মার্চের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আমাকে একটিই মন্ত্র দিয়েছেন-বগুড়ার মানুষের জন্য কাজ করা। শহীদ জিয়ার দর্শনই হলো উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি। এই চেয়ারে বসে আমি দলমতের ঊর্ধ্বে। কোনো বৈষম্য ছাড়াই ১২টি উপজেলা এবং সকল পৌরসভাতে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিশ্রুতি।
সকালবেলা: গত ২৯ মার্চ সোনাতলার শহীদ সৈকত চত্বরে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলাবাসী আপনাকে এক বিশাল গণসংবর্ধনা দিয়েছে। ওই অঞ্চলের নদীভাঙন কবলিত বা অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জেলা পরিষদ থেকে বিশেষ কোনো প্রকল্প থাকছে কি?
এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির: ওই দিনের গণসংবর্ধনা আমাকে ঋণী করে দিয়েছে। সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার চর এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আমি জানি। আমি ইতোমধ্যে প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি চরাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা এবং স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশেষ ‘স্কিম’ তৈরি করতে। যমুনা পাড়ের অবহেলিত মানুষের জন্য জেলা পরিষদের দরজা সবসময় খোলা থাকবে।
সকালবেলা: সাধারণ মানুষ প্রায়ই অভিযোগ করেন যে জেলা পরিষদের সেবা পেতে হলে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। আপনি কি ‘ডিজিটাল জেলা পরিষদ’ বা কোনো আধুনিক সেবা চালুর কথা ভাবছেন?
এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির: অবশ্যই। আমি চাই স্বচ্ছতা। আমরা একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কথা ভাবছি যাতে টেন্ডার থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি-সবই মানুষ জানতে পারে। কোনো ফাইল যেন অকারণে টেবিলে পড়ে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে আমি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। দুর্নীতিমুক্ত জেলা পরিষদ গড়াই আমার মূল ভিশন।
সকালবেলা: দৈনিক সকালবেলা’র পাঠকদের উদ্দেশ্যে বা বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা আছে?
এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির: আমি বগুড়াবাসীকে বলতে চাই, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আমানতদারিতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি। আমি বগুড়া জেলা পরিষদকে বাংলাদেশের একটি ‘মডেল জেলা পরিষদ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আপনাদের গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযোগিতা সবসময় কাম্য।
সকালবেলা: আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির: আপনাকে এবং দৈনিক সকালবেলাকেও ধন্যবাদ।