জুলাই অভ্যুত্থান: কওমি ছাত্রদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ণ
জুলাই অভ্যুত্থান: কওমি ছাত্রদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি

নয়া দিগন্ত অনলাইন: ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যে বীরত্বপূর্ণ ও আত্মত্যাগী ভূমিকা ছিল, সেটির আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ এই দাবি জানান বাংলাদেশ কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে তিনি এই দাবিটি তুলে ধরেন।

সম্মেলনে কওমি ছাত্রনেতা জামিল সিদ্দিকী বলেন, “জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে যখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়, তখন কওমি মাদরাসার সাধারণ ছাত্ররা রাজপথে সরাসরি সম্পৃক্ত হন। শুধু তাই নয়, উত্তাল ও বিভীষিকাময় সেই দিনগুলোতে যখনই সাধারণ আন্দোলনকারীরা পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে বিপদগ্রস্ত হয়েছেন, তখনই কওমি ছাত্ররা তাঁদের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছেন।”

তিনি আরও জানান, আন্দোলন চলাকালীন তাঁদের সংগঠন ‘কওমি ছাত্র ফোরাম’ মাঠপর্যায়ে আহত অসংখ্য ছাত্র-জনতার জন্য তাৎক্ষণিক খাবার ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সুব্যবস্থা করেছিল।

রাজধানীর অন্যতম প্রধান উত্তপ্ত পয়েন্ট যাত্রাবাড়ীতে কওমি ছাত্রদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে জামিল সিদ্দিকী বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকার বড় বড় মাদরাসার অসংখ্য শিক্ষার্থী সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি তথ্য দিয়ে জানান, আন্দোলনের পর ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম’ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে নির্ভরযোগ্য শহীদ তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে অন্তত ৭৯ জন মাদরাসা শিক্ষার্থীর নাম এসেছে, যাঁরা দেশের জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কওমি আলেম ও ছাত্রদের এই ঐতিহাসিক অবদানের কথা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই জাতীয় সম্মেলন থেকে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি—আজকের এই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশে কওমি ছাত্রদের অধিকার ও অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। জুলাই বিপ্লবে তাঁদের যে আত্মত্যাগ, সেটির অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে তাঁদের সমানভাবে মূল্যায়ন করা হোক।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর মনোযোগ দিয়ে কওমি ছাত্রদের এই অবদানের কথা শোনেন। জাতীয় এই স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও বক্তব্য দেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আয়োজিত এই স্মারক সম্মেলনে জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও চিকিৎসাধীন আহতরা উপস্থিত থেকে তাঁদের রক্তঝরা দিনগুলোর নির্মম অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ, শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই কনফারেন্সের শেষ অংশে জুলাই বিপ্লবের সকল বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে এক বিশেষ ও আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন