৫১ বছরেও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য ও ৫ সহজ অভ্যাস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ণ
৫১ বছরেও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য ও ৫ সহজ অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক: হলিউডের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ৫১ বছর বয়সে পা দিয়েও তাঁর অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সতেজ ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য বিশ্বজুড়ে সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। নিখুঁত ত্বকের জন্য অনেকে দামি ও জটিল কসমেটিক ট্রিটমেন্টের কথা ভাবলেও জোলির ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে তাঁর ব্যক্তিগত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও লাইফস্টাইল বিশ্লেষকদের দেওয়া মতামত থেকে জানা যায়, জোলির এই চিরতারুণ্যের পেছনে রয়েছে কিছু খুবই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর দৈনন্দিন অভ্যাস, যা তাঁর স্কিনকেয়ার রুটিনের মূল ভিত্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোলির রূপচর্চায় কোনো জাদুকরী রহস্য নেই; বরং নিয়মিত কিছু বেসিক নিয়ম মেনে চলাই তাঁকে এই বয়সেও দীপ্তিময় ত্বক ধরে রাখতে সাহায্য করছে। নিচে তাঁর সেই সহজ ৫টি স্কিনকেয়ার টিপস তুলে ধরা হলো:

১. সানস্ক্রিন ও মৃদু ক্লিনজারের ওপর ভরসা: অ্যাঞ্জেলিনা জোলির ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অলঙ্ঘনীয় ধাপ হলো সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা। তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার আগে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন এবং একটি মৃদু (Mild) ক্লিনজার দিয়ে মুখ সবসময় পরিষ্কার রাখেন। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি ত্বককে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েট করতে কড়া স্ক্রাব বা ভারী কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন। এর পরিবর্তে মাঝেমধ্যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড এবং আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড (AHA) জাতীয় মৃদু উপাদান ব্যবহার করেন, যা ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও কোমল রাখে।

২. ভ্রমণের সময়ও নিয়মের ব্যত্যয় না করা: চলচ্চিত্রের শুটিং বা বিশ্বজুড়ে মানবিক নানা কাজের জন্য জোলিকে বছরের একটা বড় সময় ভ্রমণে কাটাতে হয়। তবে বিভিন্ন সৌন্দর্য ও লাইফস্টাইল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শত ব্যস্ততা বা পরিবেশ পরিবর্তনের মাঝেও তিনি তাঁর স্কিনকেয়ার রুটিন ঠিক রাখেন। দীর্ঘ সময় রোদে আউটডোর শুটিং থাকলেও সানস্ক্রিন রি-অ্যাপ্লাই করে ত্বককে সুরক্ষিত রাখেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সূর্যের আলো ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে পিগমেন্টেশন ও বয়সের ছাপ (এজিং সাইন) দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, আর এ বিষয়টি জোলি অত্যন্ত সচেতনভাবে মেনে চলেন।

৩. টুপি পরা, পর্যাপ্ত পানি পান ও ময়েশ্চারাইজার: সূর্যের আলো সরাসরি মুখে পড়া আটকাতে জোলি যখনই বাইরে যান, প্রায়শই বড় টুপি (Hat) পরিধান করেন। এছাড়া তিনি প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখেন এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন। লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) ও স্বাভাবিক তেলের ভারসাম্য ধরে রাখে, যা বয়সের ছাপ লুকাতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।

৪. নো-মেকআপ লুক ও দিনশেষে গভীর ক্লিনজিং: পর্দার বাইরে সাধারণ জীবনে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ভারী মেকআপ বা চড়া রূপটান একদমই পছন্দ করেন না। তিনি সবসময় হালকা ও ন্যাচারাল (Natural Look) লুকে থাকতে ভালোবাসেন। তবে কাজের প্রয়োজনে মেকআপ করতে হলেও, দিনের শেষে বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে ডাবল ক্লিনজিংয়ের মাধ্যমে ত্বক থেকে মেকআপের শেষ কণাটুকুও নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করা তাঁর অন্যতম প্রধান অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ত্বকে মেকআপ বা ধুলাবালি জমতে না দেওয়াই ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখার সবচেয়ে বড় শর্ত।

৫. কৃত্রিম উপায়ের চেয়ে প্রকৃতিতে বিশ্বাস: ২০১০ সালের একটি বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর ত্বকের বা চেহারার যৌবন ধরে রাখতে কখনোই কোনো ধরনের প্লাস্টিক সার্জারি করাননি এবং ভবিষ্যতেও এমন কিছু করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকে নিজের শরীর ও নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিয়ে বেঁচে থাকার পূর্ণ অধিকার রাখে এবং কে কীভাবে নিজেকে সুন্দর ও ভালো রাখবে—এটি সম্পূর্ণ যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও লাইফস্টাইল বিশ্লেষকদের চূড়ান্ত মূল্যায়ন হলো—অ্যাঞ্জেলিনা জোলির এই সৌন্দর্যের পেছনে কোনো অতিপ্রাকৃতিক ম্যাজিক নেই। বরং নিয়মিত পরিমিত স্কিনকেয়ার, রোদ থেকে সুরক্ষা, পর্যাপ্ত পানি পান ও একটি পরিচ্ছন্ন সুশৃঙ্খল লাইফস্টাইল—এই সাধারণ অভ্যাসগুলোর ধারাবাহিকতাই তাঁকে ৫১ বছর বয়সেও একইভাবে উজ্জ্বল, দীপ্তিময় ও তরুণ রাখছে।

মন্তব্য করুন