ইরানে শক্তিশালী বি-১ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত শুরুর ১২ দিনের মাথায় এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বেশ কয়েকটি প্রধান সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে শক্তিশালী 'বি-১ বি ল্যান্সার' (B-1 Lancer) দূরপাল্লার রণকৌশলগত বোমারু বিমান ব্যবহার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ভূত সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথম দূরপাল্লার ভারী বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহারের ঘটনা।
যুক্তরাজ্যের রাজকীয় বিমানঘাঁটি (আরএএফ) থেকে সরাসরি উড়ে আসা মার্কিন এই ধ্বংসাত্মক বোমারু বিমানটি প্রায় ২৪টি বিপুল ওজনের নিখুঁত গাইডেন্স বোমা অথবা অসংখ্য ভারী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে বহনে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানি হুমকি চিরতরে নির্মূল করতেই এই আকাশ অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, অভিযানে ইরানের সেনা পরিচালনা কেন্দ্র, যুদ্ধবিমানের সুরক্ষিত হ্যাঙ্গার, ড্রোন মজুতগার ও প্রধান রসদ সরবরাহ অবকাঠামোগুলোতে সফলভাবে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়ার সংগে সংগে ভূ-রাজনৈতিক বাকযুদ্ধও তুঙ্গে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোপূর্বে হুশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত করা হলে তার জবাবে সরাসরি রাজধানী তেহরানের অভ্যন্তরীণ সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বোমা ফেলা হবে। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীও মার্কিন মিত্রদের জাতীয় অবকাঠামোয় আঘাত হানার জোরালো হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
একই সময়ে সৌদি বন্দরগুলোতে সমুদ্র অবরোধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালানো শুরু করেছে, যা লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব এল-মানদেব প্রণালিতে নতুন সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
চলমান এই সর্বাত্মক সংকট প্রশমিত করতে এবং স্তব্ধ হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। মার্কিন, ইরানি ও ওমানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সংগে কাতার সরকারের দফায় দফায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আলোচনার টেবিলে বারবার মূল চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করার কারণে ইরান এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে দ্বিধা করছে, তবে ক্রমাগত সামরিক চাপের মুখে তারা খুব দ্রুতই মার্কিন শর্তাবলি মেনে নিতে বাধ্য হবে।
|