বুশেহরে মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ণ
বুশেহরে মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত এবার নজিরবিহীন ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বুশেহর প্রদেশে আমেরিকার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে বলে নিশ্চিত করেছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় আজ বুধবার (৮ জুলাই) ভোরের আলো ফোটার আগেই বুশেহরের খোরমুজ এলাকার আকাশে আইআরজিসি-র রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয় হয়ে ওঠে। শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করা হলে সেটি তৎক্ষণাৎ আকাশেই ধ্বংস হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।

আইআরজিসি-র প্রধান মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এক বিশেষ সামরিক বিবৃতিতে এই সফল অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর অবৈধ বিমান আগ্রাসন ও নজরদারির উপযুক্ত জবাব দিয়েছে আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট। ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ড্রোনটিকে সফলভাবে গুলি করে নামানো হয়েছে।” জেনারেল মোহেব্বি আরও দাবি করেন, ভোরের ওই অভিযানের সময় মার্কিন ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অনধিকার প্রবেশ ও উস্কানিমূলকভাবে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল।

আজকের এই ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিটি একবারে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানে তেহরান। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, তাদের নৌবাহিনী এবং মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী যৌথভাবে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত অন্তত ৮৫টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং কমান্ড সেন্টারকে টার্গেট করে এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে। ওই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন সেনা ছাউনিগুলো যখন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই বুশেহরের আকাশে মার্কিন নজরদারি ড্রোনটি ভূপাতিত করার এই দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটল।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষায় বুশেহর প্রদেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা। সেখানে মার্কিন ড্রোনের অনুপ্রবেশ এবং সেটি ধ্বংসের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে কেমন পাল্টা জবাব আসে, এখন সেদিকেই চোখ রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

মন্তব্য করুন