ফ্রান্সে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও বিক্ষোভ থেকে ভয়াবহ দাঙ্গা, গ্রেপ্তার ১৮০০

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও বিক্ষোভ থেকে ভয়াবহ দাঙ্গা, গ্রেপ্তার ১৮০০

অনলাইন ডেস্ক: ফ্রান্সে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি সেবার নানা অবনতির বিরুদ্ধে আয়োজিত গণবিক্ষোভ চরম সহিংসতা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটে রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরের রাজপথে নেমে এসেছে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র।

শনিবারের দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর রবিবার সকালে প্যারিস ও অন্যান্য প্রধান শহরের রাস্তায় দেখা গেছে ভাঙা কাচ, পুড়ে যাওয়া গাড়ি, সাইকেল এবং চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অগুনতি ধ্বংসাবশেষ। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষে পরিস্থিতি পুরোপুরি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শনিবার ফ্রান্সজুড়ে আনুমানিক প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। অধিকাংশ সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও বিভিন্ন স্থানে সুবিধাবাদী ও উগ্র গোষ্ঠী সংঘর্ষ ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী প্যারিসে দাঙ্গা পুলিশ দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। কোথাও কোথাও পুলিশকে লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে এক রাতেই প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ সহিংসতায় অন্তত ১৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদন ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসের অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। মার্সেইয়ে বিক্ষোভকারীরা ধাতব বেড়া ভেঙে সিটি হলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। লিলের একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁ ও অ্যাপলের দোকানে বড় ধরনের ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

প্যারিসের অভিজাত এলাকায় রালফ লরেন, গুচি ও ভারসাচের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের দোকানের সামনের কাচ ভেঙে লুটপাট করা হয়। অনেক দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে মুখোশধারীদের দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য লুট করার দৃশ্য ধরা পড়েছে।

এছাড়া লিওঁ শহরের পর্যটন দফতরের ঐতিহাসিক ও পরিচিত একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা পুড়ে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। লিমোজ শহরের প্রাচীন সিটি হলে আগুন লাগার ফলে ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সাঁত-এতিয়েন শহরে ছোট বিস্ফোরক ফেটে এক তরুণের হাত উড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক খবরও পাওয়া গেছে।

ফ্রান্সে গত মাসের শেষ দিক থেকেই মূলত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। স্কুলে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ, শিক্ষক-কর্মীর ঘাটতি পূরণ, overcrowded শ্রেণিকক্ষ ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশজুড়ে বিশাল গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।