বেকারদের ‘ককরোচ’ বলায় শুরু হওয়া আন্দোলন এবার দিল্লির রাজপথে

প্রকাশ: শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ণ
বেকারদের ‘ককরোচ’ বলায় শুরু হওয়া আন্দোলন এবার দিল্লির রাজপথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের সংসদ ভবনের নিকটবর্তী দিল্লির ঐতিহাসিক সমাবেশস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করছে দেশটির আলোচিত ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। ভারতের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম ও ত্রুটির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। আর এই রাজপথের বিক্ষোভে সরাসরি যোগ দিতে আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সমাবেশটিকে ঘিরে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন এবং প্রচুর সংখ্যক দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ সকাল থেকেই দলে দলে ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) সমর্থকরা যন্তর মন্তরে এসে হাজির হতে শুরু করেন। দিল্লিতে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ বলেন, “যন্তর মন্তরে সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। ভালোবাসা ও শান্তির মধ্য দিয়েই আমাদের এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে”। এদিকে ভারতের বিখ্যাত শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই ব্যঙ্গাত্মক কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগেই আলটিমেটাম দিয়েছিলেন যে, ৫ জুনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে তিনি নিজেই এই আন্দোলনে অংশ নেবেন। উল্লেখ্য, এই বিশাল সমাবেশ ঠেকানোর জন্য দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে আবেদনকারীরা দাবি করেছিলেন যেন বিমানবন্দর ও মেট্রোস্টেশনে ব্যবস্থা নিয়ে ককরোচ সমর্থকদের আটকে দেওয়া হয়। তবে আদালত গতকাল শুক্রবার সেই জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় আজ দিল্লি পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণ এই সমাবেশে কোনো বাধা নেই।

ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে গত মে মাসে যাত্রা শুরু করে। এর পেছনে রয়েছে একটি নাটকীয় প্রেক্ষাপট; ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের বেকার তরুণদের ‘ককরোচ’ বা ‘পরজীবী’ বলে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করার পর তা নেট দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতীকী হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের অভিনব উদ্যোগ নেন। প্রথম দিকে এটি রসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হলেও, খুব দ্রুতই বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস, সরকারি নিয়োগে অনিয়ম ও তরুণদের হতাশার মতো রূঢ় বাস্তবতার কারণে লাখ লাখ তরুণ এতে যুক্ত হন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে কোটি কোটি অনুসারী অর্জন করে এই অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনটি আজ দিল্লির রাজপথে বাস্তব এক গণপ্রতিবাদে রূপ নিল।

মন্তব্য করুন