এআই পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
এআই পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ এবং ডাটা সেন্টার ও প্রসেসিং অবকাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক কম্পিউটার চিপ ও চিপের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের চাঙ্গা চাহিদার কারণে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে চীনের প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি। আর এর ইতিবাচক প্রভাবে তিন বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই পরাশক্তি।

আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) দেশটির অর্থনীতি ৪.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগের ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.৩ শতাংশ। যদিও বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ।

চলতি ২০২৬ সালের জন্য চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বার্ষিক সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকের এই সার্বিক অর্জন সেই লক্ষ্যমাত্রার ইতিবাচক সীমায় অবস্থান করছে। অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের এই উল্লম্ফন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির নানাবিধ অভ্যন্তরীণ সংকট সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

ক্রমাগত পণ্য ও সেবা রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে এ বছর চীনের মোট বাণিজ্য উদ্বৃত্ত (Trade Surplus) বিগত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের (১.২ ট্রিলিয়ন) ঐতিহাসিক গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলে আভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

উচ্চপ্রযুক্তির আন্তর্জাতিক চাহিদা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল রাখলেও চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আবাসন খাতের সংকট এখনো পুরো কাটেনি। বছরের পর বছর চাহিদা ও প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত বহুতল ভবন নির্মাণ এবং বেসরকারি আবাসন রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর ব্যাংক ঋণের বিশাল বোঝা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশটির আবাসন খাতে বিনিয়োগ ২০ শতাংশেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ গবেষক শিয়ানা ইউয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আবাসন সংকটের রেশ শিগগিরই কাটবে—এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক বৈরী পরিবেশ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কেনাকাটার প্রবণতা ও আস্থা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজার চাঙা রাখতে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে বেইজিং নীতিগত সুদের হার হ্রাস এবং গৃহঋণে ভর্তুকির মতো নানা আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ উন্মোচন করে।

সম্প্রতি উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হলেও এর তৈরি হচ্ছে বৈশ্বিক বিরোধ। চীনের বিপুল পরিমাণ সুলভ মূল্যের মানসম্পন্ন পণ্যের সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) সহ পশ্চিমা দেশগুলো বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে বাণিজ্য সুরক্ষার তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে।

একইসঙ্গে এআই ডাটা সেন্টার ও প্রযুক্তির প্রাথমিক অবকাঠামো খাতে বিশ্ব জুড়ে শত শত কোটি ডলারের যে ব্যাপক বিনিয়োগ চলছে, সেই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আকাশচুম্বী লাভ বাস্তবে কতটুকু অর্জন সম্ভব হবে, তা নিয়ে বৈশ্বিক বিশ্লেষক মহলে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে।