চ্যাট মুছে ফেলার সুবিধা আনতে পারে অ্যাপল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ণ
চ্যাট মুছে ফেলার সুবিধা আনতে পারে অ্যাপল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: অ্যাপলের জনপ্রিয় ভার্চ্যুয়াল সহকারী ‘সিরি’ (Siri)-তে আসতে যাচ্ছে এক আমূল পরিবর্তন। ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবার চ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক) মুছে ফেলার বিশেষ সুবিধা যুক্ত করতে যাচ্ছে মার্কিন এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত সিরিকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকেন্দ্রিক হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করতে চায় অ্যাপল।

চলতি বছরের আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন ‘ডব্লিউডব্লিউডিসি’ (WWDC ২০২৬)-তে নতুন এই সিরি উন্মোচনের মহাপরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। প্রযুক্তিবিশ্বের নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক মার্ক গারম্যানের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের সিরি সংস্করণে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বা প্রাইভেসিকে সবচেয়ে বড় গুরুত্ব দেবে অ্যাপল।

নতুন এই সিরি সংস্করণকে ঘিরে ইতিমধ্যে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতুহলের তৈরি হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তীব্র দৌড়ে অ্যাপলকে কিছুটা পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। ওপেনএআইয়ের ‘চ্যাটজিপিটি’, গুগলের ‘জেমিনি’ বা মাইক্রোসফটের ‘কোপাইলট’-এর মতো এআই সেবাগুলোর আগ্রাসী তুলনায় অ্যাপলের উপস্থিতি বাজারে কিছুটা কম দৃশ্যমান ছিল। তাই নতুন এই সিরি প্রজেক্টকে অ্যাপলের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ আলাদা একটি ‘সিরি অ্যাপ’ চালু করতে পারে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এটি গুগলের জেমিনি প্রযুক্তি বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) দ্বারা পরিচালিত হতে পারে, যার মাধ্যমে আইফোন ব্যবহারকারীরা একদম চ্যাটবটের মতো রিয়েল-টাইম অভিজ্ঞতা পাবেন। অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা যেকোনো জটিল প্রশ্ন করলে সিরি আগের চেয়ে আরও স্বাভাবিক ও মানুষের মতো ভাষায় উত্তর দিতে পারবে এবং দীর্ঘ কথোপকথন চালিয় যেতে সক্ষম হবে।

তবে অ্যাপল চেষ্টা করছে বাজারে থাকা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় নিজেদের সম্পূর্ণ আলাদা ও নিরাপদ হিসেবে তুলে ধরতে। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডেটা বা তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেই তারা প্রধান বিপণন অস্ত্র বা ইউএসপি (USP) করতে চায়।

নতুন সিরিতে এমন একটি উন্নত সিকিউরিটি ফিচার থাকতে পারে যেখানে ব্যবহারকারী চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর এআই-এর সঙ্গে করা চ্যাট বা কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে। এই ফিচারটি অনেকটা আইফোনের মূল ‘মেসেজেস’ অ্যাপের অটো-ডিলিট অপশনের মতো কাজ করবে। ব্যবহারকারী চাইলে ৩০ দিন, এক বছর বা অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চ্যাট সংরক্ষণের অপশন নিজের ইচ্ছেমতো বেছে নিতে পারবেন।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ফিচার বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর উদ্বেগ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে। কারণ বর্তমানে বাজারে থাকা অনেক নামী এআই সেবাই ব্যবহারকারীর গোপন কথোপকথন ও ডেটা দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের সার্ভারে সংরক্ষণ করে থাকে। পরবর্তীতে এসব ব্যক্তিগত তথ্য কোনো অনুমতি ছাড়াই এআই মডেল উন্নয়নের (AI Training) কাজে ব্যবহার করা হয়, যা বড় ধরনের প্রাইভেসি লঙ্ঘন।

তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপলের এই অতিরিক্ত ‘প্রাইভেসি-কেন্দ্রিক’ অবস্থান আংশিকভাবে একটি চতুর কৌশলও হতে পারে। অর্থাৎ ওপেনএআই বা গুগলের আধুনিক এআই সেবার তুলনায় প্রথম সংস্করণে সিরির বুদ্ধিমত্তা বা কাজের সীমাবদ্ধতাকে আড়াল করতেই হয়তো প্রতিষ্ঠানটি গোপনীয়তার বিষয়টিকে বেশি হাইপ বা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আইটি মহলে বেশ জোরেশোরে আলোচনায় এসেছে। যদিও অ্যাপল মুখে ব্যবহারকারীর শতভাগ তথ্য সুরক্ষার কথা বলছে, তবুও নতুন সিরির ভেতরের কিছু মূল নিরাপত্তা ও এআই ক্লাউড অবকাঠামো মূলত গুগলের প্রযুক্তির ওপর গভীরভাবে নির্ভর করতে পারে। ফলে ব্যাকএন্ডে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবস্থাপনায় গুগলের ভূমিকা বা এক্সেস কতটা থাকবে, সেটিও এখন এক বড় বৈশ্বিক প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই তীব্র এআই প্রতিযোগিতায় এখন শুধু ‘কে কত বেশি স্মার্ট বা বুদ্ধিমান উত্তর দিতে পারে’ সেটিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং ব্যাকএন্ডে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই জায়গাতেই এবার বড় দান চালতে যাচ্ছে অ্যাপল।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন