ঐ জায়গা থেকে কখনো প্রেম হয়নি: অপু বিশ্বাস

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
ঐ জায়গা থেকে কখনো প্রেম হয়নি: অপু বিশ্বাস

বিনোদন ডেস্ক:ঢালিউডের রুপালি পর্দার অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় শীর্ষ নায়িকা অপু বিশ্বাস। পর্দায় রোমান্টিক চরিত্রে হাজারো ভক্তের হৃদয় জয় করলেও, স্কুলজীবনে তিনি মোটেও কোনো মিষ্টি বা লাজুক স্বভাবের মেয়ে ছিলেন না। বরং ছেলেদের মতো ডানপিটে স্বভাব আর কড়া মেজাজের কারণে সহপাঠী বা স্কুলের ছেলেরা তাঁকে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার সাহসই পেত না। সম্প্রতি এক বিশেষ পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের স্কুলজীবনের নানা মজার ঘটনা, প্রেমের চিঠি পাওয়ার গোপন রহস্য এবং শৈশবের চঞ্চল দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন এই ঢালিউড কুইন।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টা ৫৪ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন, গ্ল্যামার, ওটিটি ফ্ল্যাশ ও তারকা খতিয়ান’ এবং ‘ডিজিটাল কনটেন্ট, মুভি ট্রেইলার, রিভিউ ও রিলিজ ডেট ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে অপু বিশ্বাসের পডকাস্ট আড্ডার অন-কাট বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

পডকাস্টে নিজের শৈশবের স্বভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপু বিশ্বাস হাসিমুখে বলেন, “ছোটবেলায় তো আমি নিজেকে মেয়ে নয়, বরং মনে মনে ছেলে ভাবতাম! যেহেতু আমার ডাকনামটা ছিল ‘অপু’, তাই আমার কাকা বা বাবা, কিংবা বাবার ফ্রেন্ড সার্কেল ও দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে অনেকেই যারা আমাকে সরাসরি সামনাসামনি দেখেননি, তারা নাম শুনে ভাবতেন আমি হয়তো কোনো ছেলে সন্তান। তারা প্রায়ই আমার বাবাকে বলতেন ‘আপনার ছোট ছেলেটা কেমন আছে?’ বাবাও এই বিষয়টি নিয়ে খুব মজা পেতেন এবং কাউকেই ভুল ভাঙাতেন না। সেই শৈশবের জায়গা থেকে বলতে পারি, আমি ভীষণ ডানপিটে ও চঞ্চল ছিলাম, কখনোই তথাকথিত মিষ্টি বা শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিলাম না।”

স্কুলজীবনে পড়াশোনায় এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজের সমান আধিপত্যের কথা উল্লেখ করে অপু বলেন, “স্কুলে স্যারদের মধ্যে যেকোনো ভালো বড় বা ছোট প্রোগ্রাম আয়োজন মানেই ছিল প্রথম ডাক পড়ত আমার। শিক্ষকেরা বলতেন ‘অপুকে ডাকো, ওরে নিয়ে প্ল্যানিং করতে হবে’। যেহেতু আমি ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলাম, তাই ছাত্রী হিসেবেও শিক্ষকদের কাছে আমার বেশ ভালো একটা সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল।”

হাইস্কুলে ওঠার পর প্রেমের প্রস্তাব ও ছেলেদের ভালো লাগার বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ঢালিউড কুইন জানান, তাঁর কড়া মেজাজের কারণে সরাসরি সামনে এসে কথা বলার সাহস কারোর হতো না। বান্ধবীদের মাধ্যমেই আসত সব প্রেমের অফার ও চিরকুট।

অপু বিশ্বাসের ভাষ্য, “স্কুলে অনেকেই প্রপোজ করার চেষ্টা করত। তবে তারা আমার বান্ধবীদের দিয়ে কথা বলাত। আমাকে সরাসরি ফেস করার সাহস পেত না কেউ। বান্ধবীদের আড়ালে ডেকে বলত ‘অপুকে অনেক ভালো লাগে, ওরে কীভাবে বলা যায় একটু আইডিয়া দাও’। অনেকে আবার সুন্দর সুন্দর প্রেমের চিঠি লিখে বান্ধবীদের হাতে দিত। তখন আমার বান্ধবীরা উল্টো ভয় পেয়ে বলত ‘ওরে বাপরে বাপ! অপুর চিঠি রিসিভ করে কি আমরা শেষমেশ নিজেদের বন্ধুত্বটাই নষ্ট করে ফেলব? ও তো জানতে পারলে অনেক রাগ করে আর চিল্লামিল্লি করে’।”

স্কুলজীবনে কারও সঙ্গে গোপনে মন দেওয়া-নেওয়া বা প্রেম হয়েছিল কি না, পডকাস্ট সঞ্চালকের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে অপু বিশ্বাস স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ঐ জায়গা থেকে বা ওই স্কুলজীবনের স্কুল গণ্ডিতে আমার কখনো কোনো প্রেম বা রিলেশন করা হয়ে ওঠেনি। তবে হ্যাঁ, পছন্দ অনেকে হয়তো আমাকে দূর থেকে করতেন, কিন্তু সেটা আমি তখন জানতাম না, বেশ পরবর্তী সময়ে বড় হয়ে অনেকের মুখ থেকে শুনতাম বা জানতে পারতাম।”

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন