বাংলাদেশের ‘দেলুপি’ সিনেমার প্রশংসায় বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের ‘দেলুপি’ সিনেমার প্রশংসায় বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ এবার প্রশংসা কুড়ালো বলিউডের খ্যাতিমান ও বিকল্প ধারার সিনেমার জনপ্রিয় নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপের কাছ থেকে। গত বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়া এই সিনেমাটি দেখে নিজের ভালো লাগা ও চমৎকার অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন তিনি।

রবিবার (২৮ জুন) ‘দেলুপি’র নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সিনেমা–ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত রিভিউ প্ল্যাটফর্ম ‘লেটারবক্স’-এ অনুরাগ কাশ্যপের দেওয়া একটি মন্তব্যের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেই পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাওকীর লেখেন, ‘অনুরাগ কাশ্যপ “দেলুপি” দেখে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন। এই মুহূর্তে আমার অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’ চলচ্চিত্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘লেটারবক্স’-এ ‘দেলুপি’ সিনেমাটি নিয়ে অনুরাগ কাশ্যপ লিখেছেন, ‘ক্ষমতার রাজনীতি যে কত ক্ষুদ্র স্তরেও নিখুঁতভাবে কাজ করে, সেটাই চমৎকারভাবে দেখা যায় “দেলুপি” গ্রামের গল্পে। শাসনব্যবস্থা বদলের পর ভয়াবহ বন্যায় দেশের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ছোট্ট এই গ্রামটি। ছবির গল্পটা এতটাই মানবিক যে মনে হয় যেন আমরা আমাদের নিজেদেরই পাশের কোনো গ্রামের কথা পর্দায় দেখছি। সিনেমাটি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।’ মন্তব্যের সঙ্গে তিনি একটি ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন।

২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘দেলুপি’ মূলত নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের খুলনার দক্ষিণাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের বাস্তব জীবন ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব, উপকূলীয় অঞ্চলের নদীভাঙন, স্থানীয় রাজনীতির ওপর জাতীয় রাজনীতির প্রভাব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই— এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে উঠে এসেছে এই সিনেমার গল্পে।

চলচ্চিত্রের মূল কাহিনিতে দেখা যায়, এক গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশের তৎকালীন সরকারপ্রধান ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন। সেই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই এক ভয়াবহ বন্যায় দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। ঘরবাড়ি, জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হারিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়ে সেখানকার মানুষ। এই মানবিক সংকটের ভেতর যাত্রাশিল্পী পরিবারের ছেলে পার্থ (চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিরঞ্জিৎ বিশ্বাস) ধীরে ধীরে নিজের সাজানো পরিবারকে ভেঙে পড়তে দেখেন। এমন কঠিন ও দুঃসময়ের মাঝেই পাশের গ্রামের মেয়ে নূপুরের (চরিত্রে অভিনয় করেছেন অদিতি রায়) সঙ্গে গড়ে ওঠা তাঁর সম্পর্ক জীবনে নতুন এক আশার আলো দেখায়। বাস্তবতার নির্মমতার মাঝেও এই সুন্দর প্রেমের গল্প সিনেমাটিকে দিয়েছে এক অনন্য মানবিক আবহ।

দেশে মুক্তির পর সাধারণ দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া ফেলে ‘দেলুপি’। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রটি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর মূল প্রদর্শনী তালিকায় স্থান পায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনধারার সিনেমার জন্য একটি অত্যন্ত গৌরবময় ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন