’পার্টি রক অ্যান্থেম ’ গেয়ে বিশ্ব কাঁপানো লরেন বেনেটের অকালমৃত্যু

প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ণ
’পার্টি রক অ্যান্থেম ’ গেয়ে বিশ্ব কাঁপানো লরেন বেনেটের অকালমৃত্যু

বিনোদন ডেস্ক: বিশ্বসংগীত অঙ্গনে ফের এক অন্ধকার ও শোকের ছায়া। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি তরুণকে নাচানো কালজয়ী পপ গান ‌‘পার্টি রক অ্যান্থেম’ (Party Rock Anthem)-এর অন্যতম মূল কণ্ঠশিল্পী ও ব্রিটিশ গায়িকা লরেন বেনেট মাত্র ৩৬ বছর বয়সে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন। গত সোমবার (৬ জুলাই) লরেনের সাবেক ও বহুল পরিচিত মিউজিক্যাল গার্ল গ্রুপ ‘জিআরএল’ (G.R.L.) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অফিশিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে এই অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও আকস্মিক খবরটি নিশ্চিত করেছে।

এক আবেগঘন ও শোকাতুর বিবৃতিতে জিআরএল গ্রুপটি জানায়, “অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও ভেঙে পড়া হৃদয়ে আমরা আমাদের প্রিয় বোন ও সহকর্মী লরেন বেনেটের চিরতরে চলে যাওয়ার খবরটি শেয়ার করছি। লরেনের এই অকাল চলে যাওয়া আমাদের অন্তরকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। তিনি আমাদের কাছে কতটা মূল্যবান, পবিত্র এবং ভালোবাসার মানুষ ছিলেন, তা এই মুহূর্তে ভাষায় প্রকাশ করার মতো ক্ষমতা আমাদের নেই।” বিবৃতিতে লরেনের সুন্দর ও দীপ্তিময় আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও বলা হয়, তিনি তাঁর কণ্ঠ ও কাজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের জীবনকে স্পর্শ করেছিলেন এবং তিনি সব সময় তাঁর ভক্তদের ভালোবাসার মাঝে বেঁচে থাকবেন।

তবে ইনস্টাগ্রামের ওই বিবৃতিতে লরেন বেনেটের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট বা তাৎক্ষণিক কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, যা ভক্তদের মাঝে এক বড় রহস্যের জন্ম দিয়েছে। কর্নার বা মৃত্যুর রেকর্ড সংক্রান্ত অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মে ইংল্যান্ডের কেন্টের মেওপহামে এই পপ শিল্পী শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পেছনে কোনো রহস্য বা অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আগামী অক্টোবর মাসে যুক্তরাজ্যে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি তদন্ত (ইনকুয়েস্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১১ সালে বিশ্বজুড়ে ওলটপালট সৃষ্টি করা মার্কিন ইলেকট্রো-পপ জুটি ‘এলএমএফএও’ (LMFAO)-এর ‘পার্টি রক অ্যান্থেম’ গানটির ফিমেল ভয়েস বা নারী কণ্ঠ দেওয়ার জন্য লরেন বেনেট বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান। যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘বিলবোর্ড হট ১০০’ চার্টের শীর্ষে টানা ছয় সপ্তাহ রাজত্ব করা এই গানটিকে বিলবোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের ইতিহাসের সর্বকালের পঞ্চম সফলতম গান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু অডিও নয়, গানটির অফিশিয়াল মিউজিক ভিডিওতেও এলএমএফএও সদস্যদের সঙ্গে লরেনকে জমকালো নাচ করতে দেখা গেছে, যা ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে ইতিমধ্যে ২৫০ কোটিরও (২.৫ বিলিয়ন) বেশিবার দেখা হয়েছে।

লরেনের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে তাঁর সাবেক ব্যান্ডমেট ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরিয়া ক্রেসেন্ডো ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লিখেছেন, “লরেন শুধু আমার সহকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার নিজের বোন এবং সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগেও আমাদের ফোনে দীর্ঘ সময় প্রাণবন্ত কথা হয়েছিল, কিন্তু সেটিই যে আমাদের জীবনের শেষ কথা হবে, তা আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। আই লাভ ইউ লরেন।”

লরেন বেনেটের মিউজিক্যাল ক্যারিয়ারের গ্রাফ ছিল বেশ বৈচিত্র্যময় ও অনুপ্রেরণামূলক। বিখ্যাত মার্কিন গার্ল গ্রুপ ‘দ্য পুসিক্যাট ডলস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কোরিওগ্রাফার রবিন অ্যান্টিনের তৈরি করা ‘প্যারাডাইসো গার্লস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে ২০০৭ সালে তাঁর পেশাদার সংগীত যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি পপ গ্রুপ ‘জিআরএল’-এ যোগ দেন। এই গ্রুপের হয়ে ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আগলি হার্ট’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য ও জনপ্রিয়তা পায়। একই বছর বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান র‍্যাপার পিটবুলের সাথে ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড লাভ’ গানেও যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়ে মাত করেছিলেন লরেনরা।

তবে ২০১৫ সালে ব্যান্ডের অন্যতম প্রধান সদস্য সিমন ব্যাটেলের আকস্মিক আত্মহত্যার পর মানসিক ধাক্কায় গ্রুপটি ভেঙে গিয়েছিল। দলগত অভাবনীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি লরেন একক শিল্পী হিসেবেও ‘ডেট নাইট’ এবং হলিউডের বিখ্যাত কমেডি সিনেমা ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’-এর সাউন্ডট্যাকেও এককভাবে কণ্ঠ দিয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তাঁর এই অকাল চলে যাওয়া বিশ্ব পপ সংস্কৃতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

মন্তব্য করুন