টিএসসিতে নারীকে লাঠি নিয়ে হেনস্তা: ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ণ
টিএসসিতে নারীকে লাঠি নিয়ে হেনস্তা: ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় গভীর রাতে এক নারীকে লাঠি হাতে তেড়ে যাওয়া ও সশরীরে হেনস্তা করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এদিকে, অভিযুক্ত দুই ছাত্রের পরিচয় পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একজন গাজীপুরের চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী আহমেদ রাকিব লাঠি হাতে এক নারীর দিকে উগ্র মেজাজে তেড়ে যাচ্ছেন। এ সময় তার সাথে থিয়েটার ও পারফরম্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার তুষারকেও দেখা যায়। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, পুরান ঢাকা থেকে সেহরি খেয়ে টিএসসিতে ঘুরতে এলে ওই ছাত্ররা তাদের ‘পতিতা’ বলে সম্বোধন করেন এবং এক পর্যায়ে গায়ে হাত তোলেন। ভিডিওতে ভুক্তভোগী নারীকে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিচার দাবি করতে দেখা যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে আমার গায়ে কেন হাত তুলবে? রাতে কি এই এলাকায় যাতায়াত করা নিষেধ? আমাদের পোশাক দেখে কি মনে হয় আমরা খারাপ? ৫ আগস্টের পর আমরা মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ নই।’ অপর এক নারীকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে তাকে থাপ্পড় মারা হয়েছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আহমেদ রাকিব ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর সাব্বির হত্যা মামলার আসামি। একজন হত্যা মামলার আসামি কীভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করার সাহস পায়, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশের এসআই স্বপন মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত অবগত নন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিডিওটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ক্যাম্পাসে বহিরাগত বা সাধারণ কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে দেখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন