দীঘিনালায় সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ
রুপম চাকমা, দীঘিনালা: খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের পনছড়ি সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বছরের পর বছর ধরে একটি খালের ওপর বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকোই এখন এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। ফলে প্রতিদিন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে শতাধিক শিক্ষার্থী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে খালের পানির স্তর বৃদ্ধি পেলে বাঁশের সাঁকোটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সামান্য অসাবধানতায় পা পিছলে খরস্রোতা খালে পড়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার করে স্কুলে পাঠানো নিয়ে প্রতিনিয়ত চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে অভিভাবকদের।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার সময় তাদের এই নড়বড়ে সাঁকোটি ব্যবহার করতে হয়। বৃষ্টির দিনে বাঁশ পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় বই-খাতা নিয়ে পার হওয়া যেমন ভোগান্তির, তেমনই আতঙ্কের। অনেক সময় সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে বই-খাতাও ভিজে যায়।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পনছড়ি সীমান্ত এলাকায় একটি টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতু না থাকায় শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়; স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক, চাকুরিজীবী ও রোগীবাহী মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।
সেতু না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে মেরুং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) সমীরণ চাকমা বলেন, "এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) বরাবর ইতিমধ্যেই আমরা একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছি। প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দ পেলে দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।"
অন্যদিকে দীঘিনালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মনির হোসেন জানান, "শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের এই সংকটের বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে একটি টেকসই সেতু বা বিকল্প নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
এআইএল/সকালবেলা
|