সাতক্ষীরায় ‘জুলাই ক্যালেন্ডার’ উদ্বোধন

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘জুলাই ক্যালেন্ডার’ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা: রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ এবং শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে মাসব্যাপী নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত বিশেষ ‘জুলাই ক্যালেন্ডার’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ও হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং স্থানীয় বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের হাতে এই বিশেষ ক্যালেন্ডার তুলে দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

ক্যালেন্ডার হস্তান্তর ও উদ্বোধনী আয়োজনে সাতক্ষীরা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক আরাফাত হোসাইন, মুখ্য সংগঠক আল শাহরিয়ার এবং মুখপাত্র মোহিনী পারভীন। এছাড়াও এই আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থেকে আহত হওয়া বীর সেনানী জিল্লু রহমান, আবু হাসান এবং আব্দুল আজিজ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, জুলাই মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও রক্তস্নাত অধ্যায়। ছাত্র-জনতার ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা পঙ্গুত্ব বা গুরুতর আহত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন, তাদের স্মৃতি চিরঞ্জীব করে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাসব্যাপী কর্মসূচির এই ক্যালেন্ডারে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে: ১. মানবিক কার্যক্রম: আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তা এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। ২. স্মৃতিচারণ: জুলাইয়ের সেই দিনগুলোর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং উপস্থিত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনাসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ আরও একবার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন