ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনয়নে অনিয়মের অভিযোগ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ণ
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনয়নে অনিয়মের অভিযোগ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ

অনক আলী হোসেন শাহিদী: আইন ও বিধি অমান্য করে এবং ক্ষমতার অনৈতিক ব্যবহারের মাধ্যমে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পাঠানো প্রস্তাব উপেক্ষা করে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যক্তিকে গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের আউলিয়া পাড়া ফাজিল মাদ্রাসায়। সভাপতি পদে মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোঃ মতিউর রহমান কিশোরগঞ্জের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ডেমোনস্ট্রেটর পদে ১০ম গ্রেডে কর্মরত এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আউলিয়া পাড়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আবু সাইদ গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং আ/ফা/মা ৪৮/২০২৬) বিধি অনুযায়ী গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পত্র ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করেন। প্রেরিত ঐ পত্রে ১নং ক্রমিকে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমবিএ), ২নং ক্রমিকে মোঃ শফিকুল ইসলাম ফকির (শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমএসসি) এবং ৩নং ক্রমিকে মোঃ মুনিরুজ্জামান (শিক্ষাগত যোগ্যতা: এমএসসি)-এর নাম পেশাগত ও সামাজিক যোগ্যতা উল্লেখ করে পাঠানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ১৮ জুন এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেও তার ওপর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অভিযোগ উঠেছে, সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে ক্ষমতার অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং ই আ বি/রেজিঃ/প্রশাঃ ফা জ ব/ গ-৭৯/ ২০১৭- ৮৭০) এক পত্রের মাধ্যমে জনৈক মোঃ মতিউর রহমানকে আউলিয়া পাড়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি পদে মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোঃ মতিউর রহমান কিশোরগঞ্জ ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের দশম গ্রেডের এমপিওভুক্ত কর্মচারী হিসেবে ডেমোনস্ট্রেটর পদে কর্মরত এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাশ। এ বিষয়ে ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়াহিদুজ্জামান এই প্রতিনিধিকে বলেন, “এ ধরনের পদে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু মোঃ মতিউর রহমান এ বিষয়ে কোনো অনুমতি নেননি বা তাঁকে কোনো অনাপত্তিপত্র প্রদান করা হয়নি। তিনি নিয়মিত কর্মচারী হিসেবে সরকারের বেতন ভাতা ভোগ করছেন।”

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল বা স্নাতকোত্তর পাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফরমেও এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে। ফলে এই স্তরের নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো ব্যক্তির নাম প্রস্তাবের সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বিধি মেনেই উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিদের প্যানেল পাঠিয়েছিলেন।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নিং বডি গঠন সংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, “ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যক্ষের প্রস্তাবিত তালিকা মধ্য থেকে অথবা অন্য কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করবেন।” শিক্ষাবিদদের মতে, এই ক্ষমতার প্রেক্ষাপটে ভাইস চ্যান্সেলর অবশ্যই অধ্যক্ষের প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা। তা না করায় এই মনোনয়নে দুর্নীতি রয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) ড. আবু জাফর খানকে সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের প্রস্তাব আমলে না নিয়ে কোন যোগ্যতায় মোঃ মতিউর রহমানকে সভাপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হলো— জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি আপনাকে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য নই।”

অন্যদিকে, সামগ্রিক বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হলে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, “কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যেকোনো কাজে অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন