হজ ও ওমরা পালনকালে মৃত্যুর ফজিলত ও মর্যাদা
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক : হজ ও ওমরাহ একজন মুসলমানের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং কাঙ্ক্ষিত ইবাদত। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দেওয়া, পূর্বের সমস্ত গুনাহ খাতা মাফ করানো এবং আত্মার পবিত্রতা অর্জনের এক মহিমান্বিত যাত্রা।
প্রতিবছর পৃথিবীর আনাচে-কানাচে থেকে কোটি কোটি মুসলমান পবিত্র কাবা শরিফে উপস্থিত হন এবং সেখানে ইবাদত-বন্দেগির মহান সৌভাগ্য অর্জন করেন। এই সুবিশাল জনসমুদ্রে প্রতিবছরই অনেক সৌভাগ্যবান মানুষ ইন্তেকাল করেন। একজন মুমিন মুসলমানের জন্য হজ কিংবা ওমরাহ পালনকালে মৃত্যুবরণ করা অত্যন্ত মর্যাদা ও চিরন্তন সৌভাগ্যের বিষয়।
একাধিক হাদিসে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। কারণ এমন মৃত্যু শুধু দুনিয়ার সফরের সমাপ্তি ঘটায় না; বরং আল্লাহর ঘরের মহাসম্মানিত মেহমান অবস্থায় আখিরাতের অনন্ত জীবনের দিকে যাত্রা নিশ্চিত করে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি আরাফাতের ময়দানে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে উকুফ-রত (অবস্থান) ছিলেন। হঠাৎ তিনি তাঁর বাহন থেকে নিচে পড়ে যান এবং এতে তাঁর ঘাড় মটকে গিয়ে তিনি মারা যান। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিলেন—তাকে বরইপাতা সিদ্ধ করা পানি দিয়ে গোসল দাও এবং তার নিজের দুই টুকরো কাপড় দিয়েই তাকে কাফন পরাও। তাকে কোনো সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথাও আবৃত (ঢেকে) করবে না। কেননা, কেয়ামতের দিন তাকে মহান আল্লাহর দরবারে তালবিয়া (লাব্বায়িক আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক...) পাঠরত অবস্থায় জীবিত করে ওঠানো হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ১২৬৭ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১২০৬)।
অন্য একটি হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হলো এবং পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করল, কিয়ামত পর্যন্ত তার আমলনামায় হজের সওয়াব অনবরত লেখা হতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশে বের হলো এবং সে অবস্থায় তার মৃত্যু হলো, কেয়ামত পর্যন্ত তার জন্য ওমরার সওয়াব লেখা হতে থাকবে। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশে বের হলো এবং তাতে তার মৃত্যু হলো, কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য একজন মুজাহিদের সওয়াব নিয়মিত লেখা হতে থাকবে।” (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং: ৬৩৫৭ এবং তবারানি আউসাত, হাদিস নং: ৫৪৮০)।
হজ ও ওমরার এই পবিত্র সফর একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। এই অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসা ও রহমতের চূড়ান্ত নিদর্শন। কারণ এমন ব্যক্তি ইবাদত, খাঁটি তাওবা, জিকির ও আল্লাহর স্মরণের এক স্বর্গীয় পরিবেশের মধ্য দিয়ে রবের ডাকে সাড়া দেয়। একজন প্রকৃত মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই হতে পারে না।
তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত, হজের সফরকে শুধু একটি ভ্রমণ বা সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে; একে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর পরম নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা এবং সর্বদা এমন নেক ও ইবাদত রত অবস্থায় যেন ঈমানের সাথে মৃত্যু হয়, সেজন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা।
জান্নাত সকালাবেলা
|