হজের সময় ‘দম’ কেন ওয়াজিব হয়
হজ একটি পবিত্র ও সুনির্দিষ্ট নিয়মকেন্দ্রিক ইবাদত। ইহরাম বাঁধার পর থেকে হজের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে পালন করতে হয়। তবে হজের কোনো ওয়াজিব কাজ বাদ পড়লে কিংবা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজে লিপ্ত হলে তার প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পশু কোরবানি দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যাকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘দম’ বলা হয়।
হজের ওয়াজিব কাজগুলো সঠিক সময়ে পালন না করলে বা কোনো কারণে তা ছেড়ে দিলে ‘দম’ দেওয়া আবশ্যক। প্রধান কারণগুলো
সাফা-মারওয়া সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার সাঈ করা বাদ দিলে। মিকাতের বিধান লঙ্ঘন: হজের মিকাত বা নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করার আগে ইহরাম না বাঁধলে। আরাফাত থেকে আগে প্রস্থান: জিলহজ সূর্যাস্তের আগে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করলে। মুজদালিফায় অবস্থান: মুজদালিফায় রাতযাপনের ওয়াজিব আমলটি পালন না করলে। ৫. কঙ্কর নিক্ষেপ (রমি): শয়তানকে পাথর মারার নির্ধারিত আমল সম্পন্ন না করলে। চুল কাটা বা মুণ্ডানো: সঠিক সময়ে চুল ছাঁটা বা হলক (হলক বা কসর) না করলে। বিদায়ী তাওয়াফ: মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ না করে মক্কা ত্যাগ করলে। ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ: ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার, সেলাই করা কাপড় পরা (পুরুষদের জন্য) বা চুল-নখ কাটার মতো নিষিদ্ধ কাজ করলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ‘দম’ ওয়াজিব হয়।
হজের প্রতিটি আমল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা উচিত, যাতে ইবাদতটি ত্রুটিমুক্ত ও কবুলযোগ্য হয়।
|