রিজিকের বরাদ্দ আসমান থেকে হয়

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ণ
রিজিকের বরাদ্দ আসমান থেকে হয়

রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। মানুষ প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনা করে ঠিকই, কিন্তু চূড়ান্ত ফয়সালা আসে আসমান থেকে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, "ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিক আল্লাহ নিজ দায়িত্বে রাখেননি।" (সুরা হুদ, আয়াত ৬)।

শয়তান মানুষকে দারিদ্র্যের ভয় দেখিয়ে অশ্লীলতা ও অন্যায়ের পথে ধাবিত করে। মুমিন যখন হালাল পথে চলার সিদ্ধান্ত নেয়, শয়তান তখন তাকে অভাবের ভয় দেখায়। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে হালাল পথে চেষ্টা করে, আল্লাহ তাদের পথ খুলে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হতে, তবে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয়, সেভাবে তোমাদেরকেও দেওয়া হতো।" (তিরমিজি)।

রিজিক মানে কেবল টাকা-পয়সা বা ধন-সম্পদ নয়। ঈমান, সুস্থতা, নেক সন্তান, সৎ প্রতিবেশী এবং ইবাদতের সুযোগ সবই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। কেউ দুনিয়ায় অনেক সম্পদ পেল কিন্তু ঈমান বা পরকাল হারাল, তবে সে প্রকৃত রিজিক থেকে বঞ্চিত হলো।রিজিকে বরকত পেতে হলে পার্থিব জীবনের চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দিতে হবে। যারা শুধু দুনিয়া চায়, আল্লাহ তাদের দুনিয়ায় কিছু দেন ঠিকই, কিন্তু পরকালে তাদের কোনো অংশ থাকে না। অন্যদিকে, যারা আখিরাতকে প্রাধান্য দেয়, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই সমৃদ্ধ করেন। হারামের পথে অর্জিত সম্পদ সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ডেকে আনে। তাই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহে পড়ে চিরস্থায়ী আখিরাত নষ্ট করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন