বিশ্বে নতুন আতঙ্ক প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস, যেভাবে ছড়ায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা ও ইনফ্লুয়েঞ্জার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্বে নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে প্রাণঘাতী 'হান্টাভাইরাস'। সাম্প্রতিক এক প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শুক্রবার (৮ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই ভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য জানানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোভিডের মতো ব্যাপক মহামারি হওয়ার আশঙ্কা কম হলেও এর মৃত্যুহার যথেষ্ট উদ্বেগের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। ইঁদুরের বিষ্ঠা, লালা ও প্রস্রাব থেকে এই ভাইরাস পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইঁদুরের উপদ্রব আছে এমন বদ্ধ জায়গা পরিষ্কার বা ঝাড়ু দেওয়ার সময় ভাইরাসটি বাতাসে মিশে যায় এবং নিঃশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বিরল ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঘটনাও ঘটতে পারে, যা মূলত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের কারণে হয়। সত্তরের দশকে দক্ষিণ কোরিয়ার হান্টান নদীর তীরে প্রথম শনাক্ত হওয়ায় এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে হান্টাভাইরাস।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মতে, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়।ক্লান্তি, জ্বর এবং পেশিতে ব্যথার মতো ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ। ৪ থেকে ১০ দিন পর তীব্র কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ফুসফুসে পানি জমতে পারে, যাকে বলা হয় 'হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম'।এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
বর্তমানে হান্টাভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত রোগীকে সাধারণত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং প্রয়োজনে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হয়। ডব্লিউএইচও-র জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক ডা. আবদিরাহমান মাহমুদ জানান, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং আইসোলেশন নিশ্চিত করলে এই সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে ইঁদুরের উপদ্রব কমানো এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কারের সময় মাস্ক ব্যবহারসহ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জান্নাত/সকালবেলা
|