বাড়ছে বিড়ালপ্রেমীর সংখ্যা, পিছিয়ে পড়ছে কুকুর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ণ
বাড়ছে বিড়ালপ্রেমীর সংখ্যা, পিছিয়ে পড়ছে কুকুর

আপনি কি বিড়ালপ্রেমী নাকি কুকুরপ্রেমী? এই পুরোনো প্রশ্নের উত্তর এখন বদলে যাচ্ছে পূর্ব এশিয়ায়। অঞ্চলটির দেশগুলোতে দ্রুত বাড়ছে বিড়াল পালনের প্রবণতা। সম্প্রতি তাইওয়ানে ২০২৫ সালের সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রথমবারের মতো সেখানে পোষা বিড়ালের সংখ্যা কুকুরকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৩ সালে বিড়ালের সংখ্যা ১৩ লাখ থাকলেও মাত্র এক বছরে তা বেড়ে ১৭ লাখে দাঁড়িয়েছে—অর্থাৎ বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৩ শতাংশ।

চীনে ২০২১ সালেই বিড়ালের সংখ্যা কুকুরকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। জাপানে এই পরিবর্তনের শুরু আরও আগে, প্রায় এক দশক আগে থেকেই সেখানে বিড়ালের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ে এখনো কুকুরের সংখ্যা বেশি হলেও বিড়াল পালনের হার দ্রুত বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে বেশ কিছু সামাজিক ও ভৌগোলিক কারণ

পূর্ব এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্টগুলো বেশ ছোট। এমন জায়গায় কুকুরের চেয়ে বিড়াল পালন অনেক বেশি সুবিধাজনক।ব্যস্ত কর্মজীবনের কারণে কুকুরকে নিয়মিত বাইরে হাঁটানোর সময় অনেকেরই নেই। বিড়াল স্বাবলম্বী হওয়ায় ঘরের ভেতরেই স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে।দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে মানসিক চাপ কমাতে বিড়াল অনেকের কাছে সহজ সঙ্গী হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ব এশিয়ায় জন্মহার কমার অন্যতম কারণ এবং পোষা প্রাণীর প্রতি ঝোঁক বাড়ার কারণ একই। অনেক দম্পতি এখন সন্তান নেওয়ার বদলে পোষা প্রাণীকে সন্তানের বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২৩ সালে শিশুদের স্ট্রলারের চেয়ে পোষা প্রাণীর স্ট্রলার বেশি বিক্রি হওয়া এর একটি বড় প্রমাণ।

পোষা প্রাণীর প্রতি এই আগ্রহের কারণে এশিয়াজুড়ে ‘পেট ইকোনমি’ বা পোষা প্রাণীভিত্তিক বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে কেবল পোষা প্রাণীর খাবারের বাজারই ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন