ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ণ
ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক: হামের টিকাদান কর্মসূচিকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে দেওয়ার পেছনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক সব উপদেষ্টাসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ এবং এর পেছনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজিএইচএস) সরকারের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৬ এপ্রিল এই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি একটি আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের পর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার সরাসরি জনস্বার্থে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি করা হলো।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সারা দেশে অকস্মাৎ বিলুপ্তপ্রায় রোগ হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, হামের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে সরিয়ে অশুভ উদ্দেশ্যে প্রাইভেট বা বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই অপরাধমূলক সিদ্ধান্তের কারণে দেশের টিকাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এই অনিয়মের পেছনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খাঁন শুভ্র, নূর জাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সব উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস-সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা জরুরি।

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এই রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।