পাঁচ বছরে সামুদ্রিক মাছ আহরণ কমেছে ১৬.৫৭ শতাংশ

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ণ
পাঁচ বছরে সামুদ্রিক মাছ আহরণ কমেছে ১৬.৫৭ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক: নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আধুনিক সরঞ্জামের সংকট, অতিরিক্ত মাছ আহরণ এবং পরিবেশগত দূষণের কারণে বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্য খাত গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। দেশের সার্বিক মৎস্য উৎপাদনে সামুদ্রিক মাছের সার্বিক অবদান দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশে সামুদ্রিক মাছ আহরণের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) মৎস্য অধিদপ্তরের সামুদ্রিক শাখার উপপ্রধান মো. মোখলেছুর রহমানের বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত মাছ আহরণের কারণে সামুদ্রিক মৎস্য প্রজাতির ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক সরঞ্জামের চরম ঘাটতি রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথাগত ও ক্ষুদ্র নৌযানের মাধ্যমে সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়েছিল ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ টন। তবে পরের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) তা ব্যাপকভাবে কমে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৬১ টনে। বিপরীতে, শিল্পভিত্তিক বাণিজ্যিক ট্রলারের মাধ্যমে আহরণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৮০৪ টন থেকে সামান্য বেড়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৫১ টন হয়েছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পার্থ প্রতিম বর্মণ এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বড় শিল্পভিত্তিক ট্রলারগুলো তাদের জন্য নির্ধারিত গভীর সমুদ্রে না গিয়ে উপকূলীয় প্রথাগত জেলেদের অগভীর পানিতে প্রবেশ করে মাছ ধরছে। এতে ছোট নৌযান ও বড় ট্রলারগুলোর মধ্যে বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রজাতিভিত্তিক মাছের মজুতের নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য টুনা জাতীয় মাছের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কে এম আজম চৌধুরী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মাছ আহরণ ও অবতরণ সংক্রান্ত তথ্যে একটি কেন্দ্রীয় সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক দূষণ, অবৈধ মৎস্য শিকার এবং সাগরে ফেলা পরিত্যক্ত জালে সামুদ্রিক প্রাণী আটকে প্রাণহানি ঘটাও এই খাত ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ আসত সমুদ্র থেকে। কিন্তু সঠিক তদারকি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা অর্ধেকের বেশি কমে মাত্র ১১ দশমিক ১২ শতাংশে এসে ঠেকেছে। বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বেই অগভীর পানিতে ট্রলারের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কঠোর নীতিমালা প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।

সকালবেলা / নুসরাত