জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
তিতাস গ্যাসফিল্ড এলাকা (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হচ্ছে। আজ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এই নতুন কূপটির উদ্বোধন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীরতার তিতাস-২৮ নম্বর কূপটির খননকাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর উদ্বোধনের ঠিক পরপরই এখান থেকে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন (সাড়ে ১২) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হবে।

শুধু তিতাস-২৮ নম্বর কূপই নয়, বিজিএফসিএলের অধীন চলমান অন্যান্য উন্নয়ন ও অনুসন্ধান প্রকল্পের আওতায় তিতাসের ২৯, ৩০, ৩১ এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বিজিএফসিএলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব কূপের খনন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আরও প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ করা যাবে, যা দেশের শিল্প ও গৃহস্থালিতে গ্যাসের চাপ কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাসসহ বেশ কয়েকটি কূপ খননের এই বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে তিতাস-৩১ নম্বরের কাজ গত ১৯ এপ্রিল শুরু হয়। প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার লক্ষ্যমাত্রার এই কূপটির খনন কাজ শেষ হলে এবং কোনো ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না থাকলে এখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত মজুত নিশ্চিত করতে কূপটির খনন শেষে বিভিন্ন স্তরে বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে।

এদিকে তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে বর্তমানে লগিংসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াকরণ চলছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই কূপটি থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তিতাস-৩০ এবং পরবর্তী সময়ে বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপের কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা।

মন্তব্য করুন