আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে ভোটগ্রহণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ণ
আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে ভোটগ্রহণ
জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিং করছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ওই দিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে বিশেষ বুথ স্থাপন করে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

চিফ হুইপ জানান, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এ ভোটগ্রহণ পরিচালিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য ইসি কর্মকর্তারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন এবং সংসদ সচিবালয় তাদের সার্বিক সাচিবিক সহায়তা দেবে। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। সংসদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতাসহ সবাই নির্দিষ্ট বুথে আসন নম্বর অনুযায়ী ব্যালট পেপারে ভোট প্রদান করবেন। নির্ধারিত সময় ৫টার আগেই সব ভোট সম্পন্ন হলে সাথে সাথেই ফলাফল গণনার কাজ শুরু হবে।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার উদ্দেশ্যে বিরোধী ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি; যা শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ১৮ আগস্ট।

প্রকাশ্য ভোট ও সংস্কার না হওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ:

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম নির্বাচনে প্রকাশ্য ব্যালট ব্যবস্থার সমালোচনা করে জানান, ব্যালট পেপারে সংসদ সদস্যদের নাম ও আসন নম্বর লিখতে হবে, ফলে ভোটের গোপনীয়তা থাকবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার সময় গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা আইন বা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়নি।"

পাশাপাশি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে চিফ হুইপ স্পষ্ট জানান, সংবিধান অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন না। প্রকাশ্য ব্যালট ও ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা না থাকলে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, জুলাই সনদের আওতায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের আশা থাকলেও তা না হওয়ায় বিদ্যমান সংবিধানের আলোকেই এবার নির্বাচন হচ্ছে। তবে আগামী সংসদ অধিবেশনে নতুন বিল আনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্তব্য করুন