কটিয়াদী সরকারি কলেজে ভুয়া কবিরাজ আটক
মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজে নিজেকে অলৌকিক কবিরাজ পরিচয় দিয়ে নানাবিধ জটিল রোগের চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে মো. ইমরান হাওলাদার নামের এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে আটক করে কটিয়াদী থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
কলেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর আনুমানিক ১২টা ০৫ মিনিটে ইমরান হাওলাদার নামের ওই ব্যক্তি কটিয়াদী সরকারি কলেজে প্রবেশ করে সরাসরি অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি নিজেকে একজন অভিজ্ঞ ‘কবিরাজি চিকিৎসক’ হিসেবে দাবি করেন। তিনি শিক্ষকদের জানান— ডায়াবেটিস, বাতের ব্যথা, তীব্র কোমর ব্যথা, এমনকি সাপের বিষ নামানোসহ যেকোনো কঠিন ও জটিল রোগ তিনি ভেষজ ওষুধের মাধ্যমে শতভাগ নিরাময় করতে সক্ষম।
প্রাথমিকভাবে তাঁর চটকদার কথায় বিশ্বাস করে কলেজ কর্তৃপক্ষের একজন কর্মচারী ডায়াবেটিস নিরাময়ের আশয়ায় তাঁর কাছ থেকে কিছু ভেষজ গাছ-গাছড়ার শিকড় ওষুধ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং নগদ অর্থ পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে কার্যালয়ে উপস্থিত কলেজের অন্যান্য শিক্ষকেরা ওই ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক সনদ, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি আমতা আমতা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর বক্তব্যে একের পর এক গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়লে শিক্ষকদের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষকদের জেরার মুখে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিনি মূলত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে নিজেকে বড় কবিরাজ পরিচয় দেন এবং সাধারণ মানুষকে নানাবিধ রোগমুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। ভুয়া কবিরাজ ধরা পড়ার এই খবর মুহূর্তের মধ্যে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় উৎসুক জনতা ও শিক্ষার্থী সেখানে ভিড় করেন।
উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রতারককে আটকে রেখে কটিয়াদী থানা-পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত কলেজে পৌঁছে সন্দেহভাজন ওই ভুয়া কবিরাজকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আটক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় ও এর আগে তিনি কোথায় কোথায় এমন প্রতারণা করেছেন তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ডিবি ও থানা পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” বর্তমানে কটিয়াদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|