চিপ শিল্পে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর ও শুল্ক ছাড়ের মেগা প্রস্তাব বাজেটে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ
চিপ শিল্পে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর ও শুল্ক ছাড়ের মেগা প্রস্তাব বাজেটে

নিজস্ব প্রতিবেদক:বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল সেমিকন্ডাক্টর বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে এবং দেশে একটি শক্তিশালী চিপ ডিজাইন ও প্যাকেজিং শিল্প গড়ে তুলতে ঐতিহাসিক এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দেশে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে নতুন বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় চিপ শিল্পের বিকাশে আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি রেয়াতি সুবিধা বা সব ধরনের শুল্ক ও কর ছাড়ের আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সামষ্টিক অর্থনীতি, সিলিকন ইকোনমি ও আইটি শিল্প খতিয়ান’ এবং ‘বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক ঋণ উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে প্রযুক্তি খাতের এই মেগা প্রাপ্তি ও সামগ্রিক বাজেটের মূল খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হবে। উচ্চপ্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশে চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি সংসদকে অবহিত করেন, স্থানীয়ভাবে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এই শিল্পে ব্যবহৃত সমস্ত উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আগাম কর আগামী ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রস্তাব করছেন তিনি।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পেশ করা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বিশাল জাতীয় বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎসের ওপর সুষমভাবে নির্ভর করার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ হিসেবে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সরকারি খাত থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন অর্থবছরে দেশের বর্তমান লাগামহীন মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নিয়মানুযায়ী, সংসদে㓦স্থাপনের ঠিক আগে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভায় বাজেটটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি স্বাক্ষর প্রদান করেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন