আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘জনস্বাস্থ্য, মহামারি ও শিশু রোগ সচেতনতা’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিনে হামের এই ভয়াবহ রূপ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও হাম বিষয়ক সেল থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম ও হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২০৫ জন শিশু ভর্তি বা শনাক্ত হয়েছে। হঠাৎ করে আক্রান্তের এই জ্যামিতিক বৃদ্ধি দেশের সার্বিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে দেশের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করেছে।
মাঠপর্যায়ের চিকিৎসা কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অতি সম্প্রতি দেশের ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজকের ৪ জনসহ এই মৌসুমে হাম ও এর আনুষঙ্গিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে দেশব্যাপী মোট মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৬০০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই তীব্র শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও উচ্চ জ্বরের মতো জটিল উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক সেলের কর্মকর্তারা জানান, যে সমস্ত শিশু এখনো হামের প্রতিষেধক টিকা (MR Vaccine) গ্রহণ করেনি, মূলত তারাই এই ভাইরাসের প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের কোয়ারেন্টাইন বা আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সদর হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে, যদি কোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি এবং চামড়ায় লালচে গুটি বা র্যাশ দেখা দেয়, তবে কালবিলম্ব না করে তাকে নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে অধিদপ্তর। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ স্ক্রিনিং ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
জান্নাত সকালবেলা