মৌলভীবাজার হাসপাতালে শিশু বিক্রির ফাঁদ

প্রকাশ: রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজার হাসপাতালে শিশু বিক্রির ফাঁদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতক কন্যাকে মায়ের জ্ঞান ফেরার আগেই পাচারের চেষ্টা—এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে। তবে হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয়ের সময়োচিত ও সাহসী তৎপরতায় শেষ রক্ষা হয়েছে শিশুটির।

জানা গেছে, গত ২৭ মে সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার নাদামপুর গ্রামের ঝুমি আক্তার (২৫) নামের এক প্রসূতি হাসপাতালে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্রোপচারের পর মায়ের জ্ঞান ফেরার আগেই একই এলাকার আখলিছ মিয়া নামের এক ব্যক্তি নবজাতকটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় প্রাণ কৃষ্ণের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে আনা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রসূতি ঝুমির মা সাফারুন বেগম চিকিৎসা খরচ বাবদ অগ্রিম ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর থেকেই মূলত নবজাতককে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার একটি প্ররোচনা ও পরিকল্পনা শুরু হয়। ঘটনার সময় আখলিছ মিয়ার স্ত্রীকেও শিশুটি নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের সামনে তিনি টাকা দেওয়া এবং শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কথা অকপটে স্বীকারও করেন।

তবে শিশু বা মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা যে দেশের প্রচলিত আইনে একটি গুরুতর ও দণ্ডনীয় অপরাধ— বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর আখলিছ মিয়ার স্ত্রী ও তাঁর সাথে থাকা সহযোগীরা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এদিকে স্বামী, মা এবং ভাইয়ের কাছ থেকে চরমভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রসূতি ঝুমি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার বাচ্চাকে বিক্রি করব না। আমি শুধু আমার সন্তানের স্বীকৃতি চাই। আমি এখন কোথায় যাব?” বর্তমানে এই অসহায় মা ও তাঁর নবজাতক শিশুটি সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

এই বিষয়ে হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটির বিভাগীয় প্রধান ছালেহ আহমদ সেলিম জানান, শিশু বেচাকেনা একটি গুরুতর অপরাধ। ভুক্তভোগী মা যদি এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাঁকে সব ধরনের সামাজিক কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

মন্তব্য করুন