ইমাম মোজাফফর আহমদ © সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীর পরশুরামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করা ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ের (সাইকোসিস) শিকার হয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আদালত থেকে অব্যাহতি পেলেও জেলখানায় আত্মহত্যার চেষ্টা এবং সামাজিক অপমানের ট্রমা থেকে তিনি বের হতে পারছেন না।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতারা তাঁকে উদ্ধার করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
তারেক রেজা জানান, মোজাফফর আহমদ কারামুক্তির পর তাঁর ছোট ভাইয়ের বাসায় থাকাকালীন হঠাৎ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন। তিনি আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং উপস্থিত অন্যদের ওপর চড়াও হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে বেঁধে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসক ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশাল ওই ইমামকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম মোজাফফরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হলে তিনি ৩২ দিন জেল খাটেন এবং চাকরি ও সামাজিক মর্যাদা হারান। তবে পুলিশের অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা ইমাম নন, বরং কিশোরীর আপন বড় ভাই মোরশেদ।
পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে মূল অপরাধীকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ এই ইমামকে ফাঁসানো হয়েছিল। পুলিশ মোরশেদকে গ্রেফতার করে আদালতে চার্জশিট জমা দিলেও দীর্ঘ কারাভোগ ও মানসিক নির্যাতনের ফলে মোজাফফর আহমদ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।