রানা ও ইংলিসের বাইশ গজের দ্বন্দ্বে কী ঘটেছিল
ক্রীড়া প্রতিবেদক:মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ২১ বছর পর ঐতিহাসিক ও বড় ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর এই মহাকাব্যিক জয়ের ট্রাম্পকার্ড ছিলেন তরুণ তুর্কি পেসার নাহিদ রানা। তাঁর আগুন ঝরা গতি আর বিষাক্ত বাউন্সের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অজি ব্যাটাররা। একে একে অস্ট্রেলিয়ার ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে ধস নামান রানা। তবে ম্যাচ চলাকালীন ইনিংসের ১১তম ওভারে অজি অধিনায়ক জশ ইংলিসকে (১৯) আউট করার পর উইকেটের মাঝেই দুই ক্রিকেটারের এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও বাদানুবাদ চরম নাটকীয়তার সৃষ্টি করেছিল। ম্যাচ শেষে আয়োজিত অফিশিয়াল প্রেস কনফারেন্সে এই অন-ফিল্ড বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দুই পক্ষই।
আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলার মাঠ, জাতীয় ক্রিকেট দল ট্র্যাকিং ও সিরিজ প্রিভিউ’ এবং ‘আন্তর্জাতিক অলরাউন্ডার সমীকরণ, টিম কম্বিনেশন ও পিচ কন্ডিশন ফাতোদা উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে রানা-ইংলিস দ্বন্দ্বের নেপথ্য গল্প ও সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে করা হলো।
ম্যাচ চিত্র অনুযায়ী, ২৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরার চেষ্টা করছিলেন ভারপ্রাপ্ত অজি অধিনায়ক জশ ইংলিস। তবে ২৫ বলে মাত্র ১৯ রান করা ইংলিসকে যখন নাহিদ রানা নিজের গতিতে পরাস্ত করে সাজঘরের পথ দেখান, তখন স্বভাবতই অজি অধিনায়ক নিজের ওপর মারাত্মক অতৃপ্ত ও হতাশ ছিলেন। ইংলিসের সেই হতাশা এবং অন্য প্রান্তে উইকেট পাওয়ার পর রানা ক্ষিপ্র ও আগ্রাসী উদযাপন—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে বাইশ গজে তৈরি হয় এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি। পরবর্তীতে দুই দলের সতীর্থরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।
ম্যাচ শেষে রানা-ইংলিসের সেই বাদানুবাদ নিয়ে কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি। সংবাদ সম্মেলনে ক্যারি বলেন, “মাঠে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা নিয়ে আমার আসলে জশের (ইংলিস) সঙ্গে আলাদা করে কথা হয়নি। তবে আমার মনে হয়, এটাই তো আসল ক্রিকেট! মাঠে এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে কিছুটা স্পাইস বা উত্তেজনা তো থাকবেই। এখানে দুই দলের দুজন সেরা খেলোয়াড়ের মধ্যকার অন-ফিল্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না যে সামনে আর এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হোক।”
বিতর্ক এড়িয়ে নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিং ও বিশ্বমানের প্রতিভার প্রশংসায় মেতে ওঠেন এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা। ক্যারি আরও যোগ করেন, “নাহিদ রানার বোলিংয়ে আমি যা দেখলাম, ওর অসাধারণ গতি আছে এবং ও খুব স্পষ্টভাবেই ন্যাচারাল বাউন্স আদায় করতে পারে। আমাদের অস্ট্রেলিয়ার উইকেটগুলোতেও কিন্তু বেশ বাউন্স থাকে। ওর বোলিংয়ের মাঝে পছন্দ করার মতো অনেক ভালো প্রতিভা রয়েছে, যা নিশ্চিতভাবেই যে কাউকে মুগ্ধ করবে। ও চাইলে আমাদের অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ ‘বিগ ব্যাশ’-এর দল অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সে আসতেই পারে, আমরা ওকে স্বাগত জানাব।”
পরবর্তীতে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা ম্যাচ উইনার ও অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এই অন-ফিল্ড দ্বন্দ্বকে একদমই ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটা আসলে স্রেফ একজন আউট হয়ে যাওয়া ব্যাটারের তাৎক্ষণিক হতাশা ছিল, যেহেতু সে দলের প্রধান উইকেট ছিল। এটা মাঠের একটা সাধারণ মিস-কমিউনিকেশন বা ভুল বোঝাবুঝি, এর বাইরে নাথিং সিরিয়াস। মাঠের উত্তেজনা মাঠেই শেষ হয়ে গেছে এবং ওটা মাঠের ভেতরেই রেখে আসা ভালো।”
জান্নাত সকালবেলা
|