কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিতে নতুন নেতৃত্বের আশায় কর্মীরা
শেখ সবুজ আহমেদ, ঢাকা : বিএনপির তৃণমূল ও জেলা পর্যায়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত স্থবিরতা ও বিভাজন কাটিয়ে শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন ঢেলে সাজানোর এ উদ্যোগ তৃণমূল কর্মীদের মাঝে নতুন আশা ও প্রাণের সঞ্চার করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় ও সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে জোরালো বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। যদিও কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে নতুন কমিটি গঠনের আভাস পেয়ে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও রাজনৈতিক কৌতূহল।
দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দুই সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। তবে আহ্বায়ক মো. কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কমিটি বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ কেলেঙ্কারির নানা অভিযোগ উঠে আসে। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার মোট চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে পরাজিত হলে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলা নেতৃত্বের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেই কুষ্টিয়ার মতো বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে এই ভরাডুবি ঘটে।
বর্তমানে ঘোষিত হতে যাওয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রবীণ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের নাম আলোচনায় থাকলেও বয়সজনিত অসুস্থতা এবং শারীরিক সক্ষমতার অভাবের কারণে তাদের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানা গেছে।
এমতাবস্থায় কুষ্টিয়ার সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ নেতাকর্মীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেলা বিএনপির বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই তরুণ ও জনপ্রিয় নেতা দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বমহলে আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখায় সেখানে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ (বাচ্চু মোল্লা) বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সক্রিয় কর্মী বজলুর রহমান বলেন, "৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ভুল নেতৃত্ব ও অযোগ্যদের পদায়নের ফলে কুষ্টিয়ায় দল চরম সাংগঠনিক সংকটে পড়ে। স্বৈরাচারের আমলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং নীতি-আদর্শ ধরে রেখে রাজপথে লড়াই করা শেখ সাদীর হাতে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। তৃণমূলের প্রাণের দাবি— শেখ সাদীকে সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়া হোক।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী জানান, "আমরা শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও দলের সেবা করে আসছি। ব্যক্তিস্বার্থ বা পদ-পদবির মোহ থেকে আমি কখনোই রাজনীতি করিনি। বিগত দিনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি। দলীয় হাইকমান্ড যদি দায়িত্ব প্রদান করে, তবে সব ভেদাভেদ ভুলে কুষ্টিয়াকে আবারও জাতীয়তাবাদী শক্তির সুদৃঢ় ও একনিষ্ঠ ঘাঁটিতে পরিণত করতে নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেব।"