ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি বিলুপ্ত
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লাবাসীর সংঘর্ষে যুবক সুমন শেখ (২০) গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরকে। আর এই ঘটনার পরদিনই পুরো উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ৮টার দিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন ও সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিলের যৌথ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “অনিবার্য কারণবশত” ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী মহল্লাবাসীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ (২০) নিহত হন। এই ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার নিহতের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয় ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরকে। এই মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বর এখনও পলাতক রয়েছেন।
গত শুক্রবার বিকেলে নিহত সুমনের বাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম (বাবুল)। তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং কবর জিয়ারত শেষে বলেন, মামলার তদন্তে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্যের প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সদ্য বিলুপ্ত ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সিকদার সাইদুর রহমান মিঠু। তিনি বলেন, ‘এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি বা দুজন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু একজন বা দুজনের কারণে পুরো কমিটি বিলুপ্ত করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। আমরা দলের দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, অথচ আজ অন্যায়ের শিকার হলাম।’
অন্যদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথিল বলেন, কমিটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। পাশাপাশি দলের একজন শীর্ষ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বরের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|