জুলাইকে কটাক্ষ করলে জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে: আবিদ
অনলাইন ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে যারা অস্বীকার, অবহেলা বা কটাক্ষ করার অপচেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “জুলাইকে যারা কটাক্ষ করতে চাইবে কিংবা বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করে একে অবহেলিত করতে চাইবে, তাদের জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হবে।”
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আবিদুল ইসলাম খান জুলাই বিপ্লবের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান যদি সফল না হতো, তাহলে হয়তো আমি আবিদ আজকে এখানে দাঁড়িয়ে টকশোতে কথা বলতে পারতাম না। এই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে হয়তো আমাদের হাড্ডি-মাংসের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যেত না।” দেশের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে ভালোবেসে এবং দেশের মুক্তির জন্যই আমি রাজনীতি করি। তাই কোনো সংগঠনের চেয়ে অবশ্যই আমার কাছে বাংলাদেশ আগে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই জুলাই মূলত বাংলাদেশ পরিবর্তনের ও রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করার জুলাই। দীর্ঘমেয়াদে দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়েছে। এ কারণে ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের জোরালো দাবি থাকবে।”
আবেগঘন কণ্ঠে ছাত্রদল নেতা আবিদ বলেন, “আমি যখনই সুযোগ পাই, শহীদদের কবর জিয়ারত করতে ছুটে যাই। কারণ, চোখের সামনে আমি সহযোদ্ধাদের অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিতে দেখেছি। সেখানে তাদের জায়গায় আমারও মৃত্যু হতে পারত। আমি দীর্ঘ সময় ধরে কবরগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে তাদের ত্যাগ অনুভব করার চেষ্টা করি।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের পরিবর্তনের জন্য তরুণরা যেখানে জীবন বিলিয়ে দিল, সেখানে আজকে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা দেশে বসে জুলাই বিপ্লবকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
সারাদেশের ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, “এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম মেনে হয়নি; জাতিকে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করতেই এই বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। তাই জুলাইয়ের প্রশ্নে সরকারকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া যাবে না। জুলাই আমাদের জাতীয় ঐক্য ও অস্তিত্বের প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ১৯৭১ সাল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ২০২৪ সালের চব্বিশের জুলাই-আগস্টও রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের জন্য ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। যারা এই ঐতিহাসিক জুলাইকে খাটো করে দেখবে, তাদের ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করতে হবে।”
এআইএল/সকালবেলা
|