মাদক ইস্যুতে এনসিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলামকে ইশরাক হোসেনের তোপ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মাদক ইস্যুতে এনসিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলামকে ইশরাক হোসেনের তোপ

অনলাইন ডেস্ক: মাদক নির্মূলের সার্বিক কৌশল এবং আইনি পদক্ষেপ সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ইশরাক জানান, কোনো ফাঁকফোকর তৈরি করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলেও তিনি আইনি প্রক্রিয়া এড়াবেন না; বরং নিজেই গিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাবেন।

গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাত ১২টা ৪৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই স্ট্যাটাসটি প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন।

স্ট্যাটাসে ইশরাক হোসেন লেখেন, “জনাব নাহিদ ইসলামকে অন্তত একটু হলেও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ধারক ও বাহক ভাবতাম। কিন্তু সম্প্রতি আমার বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি মাদকের এই ভয়াবহ মহামারি ও তার কার্যকর প্রতিকার নিয়ে ০% কথা বলে, শতভাগ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন। এতে নাকি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে!”

ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক আরও প্রশ্ন তোলেন, “আগে মাদকের এই ভয়াবহ ইস্যুটা যথাযথভাবে অ্যাড্রেস (মোকাবিলা) করলে কি ভালো হতো না? তা না করে সরাসরি আইনি ফাঁদে ফেলে আলোচনা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দুঃখিত জেন-জি (নতুন প্রজন্ম), এদের মাধ্যমে আপনারা বাস্তবে কোনো নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পাচ্ছেন না।”

পোস্টে এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেন, “এই নতুন রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ মূলত শূন্য। মাদক নির্মূল করতে গিয়ে যদি পুলিশ সঙ্গে নিয়ে বৈধ উপায়ে গিয়েও ফৌজদারি মামলার আসামি হতে হয়, তবে আইনি ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা থাকে না। নাহিদকে স্পষ্ট বলব—যেভাবেই হোক কোনো ফাঁকফোকর খুঁজে আমার নামে একটা মামলা ঠুকে দেন। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে সানন্দে জেলে চলে যাব। কারণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা!”

রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে ইশরাক লেখেন, এভাবে কেবল কথার কথা দিয়ে রাজনীতি চালিয় যাওয়া সম্ভব হলেও বাস্তবে কোনো টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

স্ট্যাটাসের একদম শেষাংশে তিনি মাদকের বিস্তার রুখতে অন্য উপায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে লেখেন, “অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার ও বিক্রেতারা প্রস্তুত থাকুন।”